মেটার কর্মী ছাঁটাই: এআই প্রকল্প 'অ্যাভোকাডো'র পেছনে বিনিয়োগ বাড়াতে কঠোর সিদ্ধান্ত
ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে বিপুলসংখ্যক কর্মী ছাঁটাইয়ের আভাস দিয়ে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, খরচ কমাতে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে মেটা তাদের মোট কর্মীর ২০ শতাংশ বা তার বেশি ছাঁটাই করার পরিকল্পনা করছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই গত সোমবার মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ
বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে বেঁচে যাওয়া বিশাল অর্থ মেটাকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিতে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। বিশ্লেষকদের মতে, মেটা বর্তমানে তাদের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রকল্প 'অ্যাভোকাডো' নিয়ে কাজ করছে। এটি মূলত মেটার পরবর্তী প্রজন্মের একটি শক্তিশালী এআই মডেল। ওপেন এআইয়ের চ্যাটজিপিটি বা গুগলের জেমিনিকে টেক্কা দিতেই অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই মডেল তৈরি করছে মেটা।
তবে এই প্রকল্প মেটার ওপর বিশাল আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। অ্যাভোকাডোর পেছনে কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে, যা সামাল দিতেই মূলত প্রতিষ্ঠানটি এই গণছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করেছে। অ্যাভোকাডো মডেলটি মূলত মানুষের মতো চিন্তা করতে বা জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারবে। তবে বর্তমানে এর উন্নয়নে কিছু কারিগরি জটিলতা দেখা দেওয়ায় এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেরি হওয়ায় মেটা এখন এই প্রকল্পের পেছনে সর্বশক্তি ব্যয় করছে।
ছাঁটাইয়ের সম্ভাব্য প্রভাব ও মেটার আশাবাদ
ধারণা করা হচ্ছে, এই ছাঁটাইয়ের ফলে মেটার ১৬ হাজারের বেশি কর্মী চাকরি হারাতে পারেন। তবে মেটা আশাবাদী যে অ্যাভোকাডো সফলভাবে বাজারে আনতে পারলে তারা প্রযুক্তি জগতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে। প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, এই কঠোর সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে তাদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।
- মেটার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা খরচ কমানো ও এআই গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
- অ্যাভোকাডো প্রকল্পের পেছনে বিশাল আর্থিক চাপ সামাল দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
- ছাঁটাইয়ের খবরে মেটার শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়।
মেটার এই সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি শিল্পে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো এআই গবেষণায় আরও বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স
