বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
নির্দেশিকা জারি
শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ তারিখে ডিপিই একটি নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে সরকার, সরকারি অফিস ও সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কটূক্তি, ভুল তথ্য, প্রচারণা বা আপত্তিকর বিষয়বস্তু পোস্ট বা শেয়ার করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনাক্তকরণ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের শনাক্ত করে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্যাবিনেট বিভাগের জারি করা ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯ (সংশোধিত সংস্করণ)’ অনুসরণ করতে হবে।
সম্প্রতি কিছু শিক্ষক নির্দেশিকার পরিপন্থী পোস্ট ও মন্তব্য করছেন, যা প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পাবলিক সার্ভিস কন্ডাক্ট রুলস লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধি, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে।
নজরদারি জোরদার
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং কমিটিগুলোকে শিক্ষকদের সামাজিক মাধ্যম কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। প্রতি মাসে কমপক্ষে একটি সভা করে অনলাইন কার্যক্রম পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
ডিপিই বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে, যারা সামাজিক মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। নেওয়া ব্যবস্থার বিস্তারিত প্রতিবেদন অধিদপ্তরে জমা দিতে হবে।
ডিপিইর পরিচালক (প্রশাসন) মাহবুবা আইরিনের স্বাক্ষরিত চিঠি দেশের সব বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট ও উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
বিষয়টি সম্পর্কিত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নির্দেশনা সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্বশীল সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বিদ্যমান আচরণবিধি ও সামাজিক মাধ্যম নীতির সঙ্গে সম্মতি জোরদার করবে।



