ইন্দোনেশিয়ায় ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ
ইন্দোনেশিয়ার যোগাযোগ ও ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী মেউতিয়া হাফিদ শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছেন যে, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে। এই সিদ্ধান্তটি একটি সরকারি নিয়মের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে, যা শিশুদের ডিজিটাল ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
নিষিদ্ধ প্ল্যাটফর্মের তালিকা
মন্ত্রী হাফিদ মিডিয়াকে দেওয়া একটি বিবৃতিতে জানান, তিনি সম্প্রতি একটি সরকারি নিয়মে স্বাক্ষর করেছেন। এই নিয়ম অনুযায়ী, ১৬ বছরের নিচের শিশুদের জন্য উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট রাখা আর সম্ভব হবে না।
- ইউটিউব
- টিকটক
- ফেসবুক
- ইনস্টাগ্রাম
- থ্রেডস
- এক্স (পূর্বে টুইটার)
- বিগো লাইভ
- রব্লক্স
এই নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন ২৮ মার্চ থেকে ধাপে ধাপে শুরু হবে। মন্ত্রী হাফিদ বলেন, "ভিত্তিটি স্পষ্ট। আমাদের শিশুরা ক্রমবর্ধমান বাস্তব হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে। পর্নোগ্রাফির সংস্পর্শ, সাইবারবুলিং, অনলাইন প্রতারণা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে আসক্তি থেকে। সরকার এখানে রয়েছে যাতে অভিভাবকদের আর অ্যালগরিদমের দৈত্যের বিরুদ্ধে একা লড়তে না হয়।"
নিষেধাজ্ঞার পেছনের কারণ
এই পদক্ষেপের পেছনে মূল কারণ হলো শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। হাফিদ উল্লেখ করেন যে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তটি অভিভাবকদের জন্য একটি সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে, যেখানে তারা শিশুদের অনলাইন কার্যক্রম নিয়ে আরও নিশ্চিন্ত হতে পারবেন। ডিজিটাল যুগে শিশু সুরক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে, এবং ইন্দোনেশিয়া এই দিকে একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে, শিশুদের অনলাইন পরিবেশে নিরাপদ রাখার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে। এটি অন্যান্য দেশের জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে, যারা শিশুদের ডিজিটাল সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত।
