প্রথম আলো ভবনে শুরু হলো শিল্পকর্ম প্রদর্শনী 'আলো', সাংবাদিক ঐক্যের ডাক
প্রথম আলো ভবনে শিল্পকর্ম প্রদর্শনী 'আলো' শুরু

প্রথম আলো ভবনে শিল্পকর্ম প্রদর্শনী 'আলো'র উদ্বোধন, সাংবাদিক ঐক্যের জোরালো আহ্বান

বসন্তের রৌদ্রকরোজ্জ্বল একটি সকালে আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী 'আলো'। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলোর অগ্নিদগ্ধ ভবনে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের সংবাদপত্র মালিক, সম্পাদক, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সাংবাদিকদের মধ্যে দৃঢ় ঐক্য গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

হামলার স্মৃতিকে শিল্পে রূপান্তর

গত বছর ১৮ ডিসেম্বর রাতে একদল উগ্রবাদী লোক প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক তাণ্ডব ও অগ্নিসংযোগ করে। এই হামলায় প্রথম আলোর অনলাইন সংবাদ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং ২৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ছাপা পত্রিকার প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তবে মাত্র ১৭ ঘণ্টার মধ্যে অনলাইন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয় এবং ২০ ডিসেম্বর সকালে পাঠকরা ছাপা পত্রিকা হাতে পান। এই বিপর্যয়কর ঘটনার স্মৃতিকে ধরে রাখতে শিল্পী মাহ্বুবুর রহমান 'আলো' নামের এই প্রদর্শনী তৈরি করেছেন, যা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা এবং বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সর্বস্তরের দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের বক্তব্য

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঞ্চালক প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, "আজকের এই উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা এখানে শুধু বিধ্বস্ত ভবন দেখব না, চিন্তাকে রুদ্ধ করার ঘৃণ্য হামলা এবং সেখান থেকে উত্তরণের চেষ্টাও দেখব।" শিল্পী মাহ্বুবুর রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, তিনি ধ্বংসস্তূপের ভেতর নতুন প্রাণশক্তির উত্থানের বিষয়টি নান্দনিকভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন।

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম বলেন, "প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে আগুন দেওয়ার ঘটনা কেবল অগ্নিসংযোগ নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও চিন্তার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে আগুন।" তিনি নতুন সরকারের কাছে এই হামলার তদন্তে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ সংবাদপত্র মালিক সমিতির সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, পুড়িয়ে প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা যায় না, সাংবাদিকেরা সাহসের সঙ্গে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।

ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ প্রদর্শনীর গভীর অর্থময়তা তুলে ধরে বিশ্বব্যাপী এটি প্রচারের আহ্বান জানান। সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মোহাম্মদ হানিফ বলেন, সংবাদপত্র কার্যালয়ে হামলা একটি সমাজের জন্য নিকৃষ্ট ঘটনা এবং এই ইতিহাস ধরে রাখার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী সাংবাদিকদের দৃঢ় ঐক্য গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "এই প্রদর্শনী ধ্বংসের মধ্যেও আশাবাদের প্রকাশ ঘটিয়েছে। আমাদের স্বাধীন সাংবাদিকতা ও নিরাপত্তার জন্য ভেতরের ঐক্য শক্তিশালী করতে হবে।" তিনি ভবিষ্যতে কোনো আঘাত আসলে সর্বোচ্চ প্রতিবাদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

উপস্থিতি ও সমর্থন

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, ফটোসাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম মহসীন, এবং অন্যান্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। এই সমাবেশ সাংবাদিকতা ক্ষেত্রে একতা ও সংহতির একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে।