একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ডিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৫০ হাজারেরও বেশি কিশোর-কিশোরীর তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল পেয়েছেন।
গবেষণার মূল ফলাফল
গবেষণায় দেখা যায়, যেসব কিশোর-কিশোরী দিনে ৩ ঘণ্টার বেশি স্মার্টফোন ব্যবহার করে, তাদের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ৩৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া, যারা দিনে ৫ ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিনে কাটায়, তাদের মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তা করার প্রবণতা ৪৮ শতাংশ বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার কিশোরদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়, সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দেয় এবং শারীরিক কার্যকলাপ হ্রাস করে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ড. জিন টোয়েঞ্জ, গবেষণার প্রধান লেখক, বলেন, 'কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় সীমিত করা জরুরি।'
সমাধানের পথ
গবেষকরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন কিশোরদের স্মার্টফোন ব্যবহারের ওপর নজর রাখেন এবং দিনে ২ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন টাইম না দেওয়ার চেষ্টা করেন। এছাড়া, শারীরিক কার্যকলাপ, সামাজিক মেলামেশা এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গবেষণাটি জার্নাল অফ অ্যাডোলেসেন্ট হেলথ-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা আশা করছেন, এই ফলাফলগুলি অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে এবং কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক হবে।



