পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে নাটকীয় এবং হাইভোল্টেজ লড়াই প্রত্যক্ষ করছে ভবানীপুর কেন্দ্র। সোমবার (৪ মে) সকাল থেকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আসনে এগিয়ে থাকলেও বিকেলের পর থেকে দৃশ্যপট বদলে যেতে শুরু করেছে। গণনার শেষ পর্যায়ে এসে এই কেন্দ্রে এখন তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সবশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুর আসনে ১৬ রাউন্ড গণনা শেষে বড়সড় ওলটপালট দেখা দিয়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন বলছে, এই রাউন্ড শেষে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫৩৮ ভোটে পিছিয়ে পড়েছেন। গণনা এখনো শেষ হয়নি; আরও চার রাউন্ডের ফলাফল আসা বাকি। এই চার রাউন্ডই নির্ধারণ করবে বাংলার এই ‘হেভিওয়েট’ লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফল কার পক্ষে যাবে।
নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর জয়
অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনে নিজের দাপট ধরে রেখেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে ১০,২০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে টানা তৃতীয়বারের মতো এই আসন থেকে জয়ী হলেন তিনি। ২০২১ সালের নির্বাচনেও এই নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু।
গণনাকেন্দ্রে উত্তেজনা
বিকেল সাড়ে ৩টার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে পৌঁছান, তখন পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া বিজেপি কর্মীরা মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে দ্রুত কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়। এর আগে গণনাকেন্দ্রের কাছে একটি পেট্রল পাম্পে তৃণমূল কর্মীদের জমায়েত এবং বিজেপি সমর্থকদের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তির খবর পাওয়া গেছে। দফায় দফায় সংঘর্ষ ও উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
মমতার রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
উল্লেখ্য যে, ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে হারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রীত্ব টিকিয়ে রেখেছিলেন। তবে ২০২৬-এর এই সাধারণ নির্বাচনে ভবানীপুরেই তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন তিনি। অন্যদিকে, রাজ্যজুড়ে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের খবরের মধ্যে ভবানীপুরের এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এখন গোটা ভারতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।



