সামাজিক মাধ্যমে লাগামহীন স্বাধীনতা ব্যবহারে উদ্বেগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
সামাজিক মাধ্যমে লাগামহীন স্বাধীনতা: উদ্বিগ্ন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাধীনতার অপব্যবহার ও ‘লাগামহীন’ আচরণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধকে সংকটের মুখে ফেলছে।

সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ও পাস ইস্যু

একই সঙ্গে তিনি জানান, সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারে শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে মিডিয়া হাউসগুলোর পাঠানো তালিকার ভিত্তিতে স্থায়ী পাস ইস্যুর নতুন পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

সংলাপে বক্তব্য

রবিবার (২৪ মে) সচিবালয়ে গণমাধ্যম সেন্টারে সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপে সচিবালয়ের নিরাপত্তা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন সালাহ উদ্দিন আহমদ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে লাগামহীনভাবে স্বাধীনতার অপব্যবহার করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু ইন্টারনেটের যুগে এসব কনটেন্ট মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করে।

সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান

সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা সামাজিক মাধ্যমে অসামাজিক বা অপসংস্কৃতির চর্চা করছেন, তাদের বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রতিবেদন হওয়া দরকার। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ ও পাস ইস্যু নিয়ে বিদ্যমান জটিলতার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পুরো প্রক্রিয়াটি অস্থায়ী ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে, ফলে কিছুটা শৃঙ্খলার ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নতুন পদ্ধতি

তিনি জানান, এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমকে তাদের প্রতিনিধিদের তালিকা দিতে বলা হবে। ওই তালিকার ভিত্তিতেই নিরাপত্তা পাস ইস্যু করা হবে।

তার ভাষায়, মিডিয়া হাউসগুলোর কাছ থেকে সাংবাদিকদের নাম আহ্বান করাটাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পদ্ধতি হবে। এতে সচিবালয়ে কারা প্রবেশ করছেন তার একটি সঠিক রেকর্ড রাখা সম্ভব হবে এবং সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিও নিশ্চিত হবে।

নিরাপত্তার গুরুত্ব

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের দাবিদাওয়া যৌক্তিক এবং সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক। তবে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারকেরা নিয়মিত কাজ করেন বিধায় নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।

তিনি আরও বলেন, লিখিত প্রস্তাব পেলে সংশ্লিষ্ট উইং, পুলিশ এবং সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রেস ক্লাবসংলগ্ন গেট

প্রেস ক্লাবসংলগ্ন গেট ব্যবহারের দাবির বিষয়ে তিনি জানান, ওই গেটের পাশেই মন্ত্রিপরিষদ ভবন থাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

বর্তমান সরকারকে গণমাধ্যমবান্ধব দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমাজ সংস্কার ও রাষ্ট্রের অগ্রগতির জন্য মুক্ত গণমাধ্যম প্রয়োজন। সরকার জনগণের কাছে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক থাকতে চায়।

স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা

তবে তিনি বলেন, ফ্রিডম অব প্রেস বা ফ্রিডম অব স্পিচ—সবকিছুই কিছু যৌক্তিক সীমাবদ্ধতার অধীন। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সামাজিক শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির স্বার্থে এসব সীমাবদ্ধতা নির্ধারিত হয়। আপনার স্বাধীনতা যেন অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে, সেটি খেয়াল রাখতে হবে।

‘হাসিমুখ নিয়েও সমালোচনা’ নিজের অভিব্যক্তি নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হয় বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সময় আমি যদি একটু হাসি, সেটিও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার বিষয় হয়ে যায়। পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় মাঝেমধ্যে গম্ভীর থাকাও ভালো।’

বৈঠকের শেষ দিকে সাংবাদিকদের বসার জায়গা ও অন্যান্য সুবিধা সংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি।