তরুণদের নিয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যের জেরে ক্ষোভ, বিদ্রূপ আর অনলাইন রসবোধ থেকে জন্ম নেওয়া একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন এখন দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দলগুলোকেও টেক্কা দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তোলা এই ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) মাত্র পাঁচ দিনে ১ কোটির বেশি ফলোয়ার পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটিতে তারা ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে।
ফলোয়ারের মাইলফলক
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে @cockroachjantaparty হ্যান্ডেল থেকে পরিচালিত এই অ্যাকাউন্টটি ১ কোটির বেশি ফলোয়ার বা অনুসারীর মাইলফলক স্পর্শ করে। এর বিপরীতে, বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট @bjp4india-এর বর্তমান অনুসারী সংখ্যা প্রায় ৮৭ লক্ষ। তবে কংগ্রেসের অ্যাকাউন্টটি @incindia এখনও কিছুটা এগিয়ে রয়েছে, তাদের অনুসারী প্রায় ১ কোটি ৩২ লক্ষ। অন্যদিকে ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত আম আদমি পার্টির (আপ) অনুসারী সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৯০ লক্ষ।
সমর্থকদের তালিকা
ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের তালিকায় যেমন রাজনীতিবিদরা রয়েছেন, তেমনি আছেন কট্টর অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমমনারাও। এর মধ্যে ধ্রুব রাঠির মতো শীর্ষস্থানীয় ইউটিউবার ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের পাশাপাশি প্রবীণ অধিকারকর্মী ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও রয়েছেন। এছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) নেতা মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদও ককরোচ জনতা পার্টিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের আহ্বান
এদিকে দলটির অনুসারী সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধির এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভারতের চলমান নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি সামনে আনার আহ্বান জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও অধিকারকর্মী প্রশান্ত ভূষণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ককরোচ জনতা পার্টি মাত্র ৪ দিনে ইনস্টাগ্রামে ১ কোটি ৩ লক্ষ অনুসারী পেয়েছে, যা বিজেপির চেয়েও বেশি। যদি বুদ্ধি ও কল্পনাশক্তির মাধ্যমে এটিকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়, তবে এর একটি ভালো ভবিষ্যৎ রয়েছে। অবশ্যই তাদের এখন নিট প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি তোলা উচিত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের জবাবদিহিতা চাওয়া উচিত।
কর্মসংস্থানের অধিকারের দাবি
বৃহস্পতিবার দেওয়া ওই পোস্টে তিনি সিজেপি-কে কর্মসংস্থানের অধিকারের দাবিতেও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, এখন কর্মসংস্থানের অধিকার আইনের দাবি তোলার সময় এসেছে। ২১ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রতিটি নাগরিকের ন্যূনতম মজুরিতে কর্মসংস্থানের অধিকার থাকতে হবে। তা না হলে তাদের বেকার ভাতা দিতে হবে।
সতর্কবার্তা
তবে এই অভাবনীয় জোয়ারের মধ্যেও একটি সতর্কবার্তা রয়েছে। অনলাইনে অনুসারী বা ফলোয়ার পাওয়া আর একটি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য হওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। কোনও দলের মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক শক্তি ও উপস্থিতি মূলত তাদের দলীয় সদস্য সংখ্যার ওপরই নির্ভর করে।



