৮৯ দেশের সমর্থন পেল নিউ দিল্লি এআই ঘোষণা, বাংলাদেশও রয়েছে তালিকায়
নিউ দিল্লি এআই ঘোষণায় বাংলাদেশসহ ৮৯ দেশের সমর্থন

নিউ দিল্লি এআই ঘোষণায় বৈশ্বিক সমর্থন, বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত

২০২৬ সালে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সামিটে (India AI Impact Summit) গৃহীত ‘নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন অন এআই ইমপ্যাক্ট’ ইতোমধ্যে ব্যাপক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এই ঘোষণাপত্রটি এখন পর্যন্ত ৮৯টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমর্থন লাভ করেছে, যেখানে বাংলাদেশ ৮৯তম স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে এতে যোগদান করেছে। শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি তারিখে সমাপ্ত হওয়া এই সামিটে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক কল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সমর্থনকারী দেশগুলোর তালিকা ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া

নিউ দিল্লি ঘোষণাকে সমর্থনকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর এবং বাংলাদেশ। এই তালিকায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি দেশটির প্রযুক্তি খাতে ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। ঘোষণাপত্রে ‘সবার কল্যাণে, সবার সুখে’ নীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, যেখানে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধাগুলো মানবজাতির মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করতে হবে।

সামিটের বিশাল অংশগ্রহণ ও উদ্দেশ্য

ভারতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সামিটটি শিল্পখাতের নেতা, উদ্ভাবক, স্টার্টআপ এবং গবেষকদের জন্য একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন:

  • ৫০০-এর বেশি এআই নেতা ও বিশেষজ্ঞ
  • ১০০-এর বেশি প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
  • ১৫০ জন শিক্ষাবিদ ও গবেষক
  • প্রায় ৪০০ জন প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা

সামিটে সাধারণ মানুষেরও অত্যন্ত উৎসাহজনক সাড়া পাওয়া গেছে, যেখানে পাঁচ লাখেরও বেশি দর্শনার্থীর উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কৃষি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআইয়ের প্রয়োগ

আকাশবাণী নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ের সদস্য সোনাক্ষী বর্ষ্ণী উল্লেখ করেন যে, এই সামিট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন ও উদ্ভাবকদের একত্রিত করার পাশাপাশি দেশের পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা প্রদানকারী এআই-চালিত উদ্যোগগুলো প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, আইআইটি রোপারের পরিচালক অধ্যাপক রাজীব আহুজা জানান যে, ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সামিট এ ধরনের প্রথম উদ্যোগ এবং এটি দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এই সামিট কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং ভারতীয় কৃষকদের সহায়তায় এআই কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে সে বিষয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম প্রদান করেছে।

সামগ্রিকভাবে, নিউ দিল্লি এআই ঘোষণার মাধ্যমে বৈশ্বিক পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ও কার্যকরী ব্যবহার নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণ এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।