ভাইরাস নিয়ে সায়েন্স ফিকশনে অনেক গল্প আছে। কিন্তু বাস্তবে ভাইরাস কেমন? পৃথিবীতে লাখ লাখ প্রজাতির ভাইরাস থাকলেও আমরা তাদের সম্পর্কে খুব কম জানি।
ভাইরাসের গঠন ও আক্রমণ পদ্ধতি
বেশিরভাগ ভাইরাসের গঠন খুবই সরল। এরা মূলত প্রোটিনের খোলসের ভেতরে থাকা এক টুকরো ডিএনএ বা আরএনএ। এই খোলসকে ক্যাপসিড বলে। ভাইরাস নিজে নিজে বংশবৃদ্ধি করতে পারে না, তাই অন্য কোষের ভেতরে ঢুকে পড়ে। তারা কোষের নিউক্লিয়াসে নিজেদের ডিএনএ প্রবেশ করায় এবং কোষকে বাধ্য করে ভাইরাসের কপি তৈরি করতে।
যখন যথেষ্ট ভাইরাস তৈরি হয়, তারা কোষ ফাটিয়ে বেরিয়ে আসে, ফলে কোষটি ধ্বংস হয়। তারপর অন্য কোষ আক্রমণ করে। শরীর যদি প্রতিরোধ করতে না পারে, তাহলে আক্রান্ত প্রাণী মারা যেতে পারে। টিস্যু গলে পানির মতো হয়ে যায়।
ভাইরাসের প্রকারভেদ
কিছু ভাইরাস ডিএনএর বদলে আরএনএ ব্যবহার করে। যেমন করোনাভাইরাস। আবার কিছু ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে। আপনার শরীরেও অনেক ভাইরাস আছে, তবে বেশিরভাগই উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে।
কিছু ভাইরাস মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে। মারবার্গ ভাইরাসে মৃত্যুহার প্রায় ২৫ শতাংশ, আর ইবোলায় ৮০-৯০ শতাংশ। তবে আধুনিক চিকিৎসা ও টিকার কারণে এখন সংক্রমণ কমানো সম্ভব।
মহাকাশ থেকে ভাইরাস আসার সম্ভাবনা
ভাইরাসের সরল গঠন তাদের মহাকাশের কঠোর পরিবেশ টিকে থাকতে সাহায্য করে। শূন্যতা, ঠান্ডা ও কিছু বিকিরণ সহ্য করতে পারে। পাথরের ভেতর লুকিয়ে পৃথিবীতে আসতে পারে। কিন্তু সেই ভাইরাস যদি মানবদেহে প্রবেশ করে, তবুও হয়তো মারা যাবে। কারণ ভাইরাস সাধারণত নির্দিষ্ট প্রজাতির জন্য তৈরি। যে ভাইরাস গাছ আক্রমণ করে, সে মানুষকে আক্রমণ করে না। ভাইরাসের ডিএনএ তালার চাবির মতো—গাড়ির চাবি দিয়ে বাড়ির দরজা খোলা যায় না।
তাই মহাকাশ থেকে আসা ভাইরাস বিজ্ঞানীর ল্যাবে টিকলেও, আমাদের জম্বি বানানোর সম্ভাবনা নেই। তারা পৃথিবীতে এসে দেখবে, আমাদের শরীর তাদের জন্য উপযুক্ত নয়। ফলে তারা দ্রুত মারা যাবে।
প্রাচীন ভাইরাস
সাইবেরিয়ার পারমাফ্রস্ট থেকে ৪৮,৫০০ বছর পুরোনো ভাইরাস উদ্ধার করা হয়েছে। ল্যাবে পরীক্ষায় দেখা গেছে, তারা এখনও অ্যামিবাকে সংক্রমিত করতে পারে। তবে মানুষের জন্য এখনো বিপজ্জনক নয়।
সুতরাং, ভিনগ্রহের ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পৃথিবীর প্রাণীদের জয় হবে।



