বিশ্বকাপে অফসাইড ধরবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি: যা জানা জরুরি
বিশ্বকাপে অফসাইড ধরবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি

ফুটবলের সবচেয়ে বিতর্কিত ও মজার নিয়ম অফসাইড। বিশ্বকাপের মঞ্চে এই অফসাইড নির্ণয়ে এবার আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর সেমি-অটোমেটেড প্রযুক্তি। বলের ভেতরে থাকা সেন্সর ও স্টেডিয়ামের চারপাশে বসানো ক্যামেরা মুহূর্তের মধ্যে অফসাইড শনাক্ত করে রেফারিকে জানিয়ে দেবে। ফলে লাইন্সম্যানের পতাকা তুলতে আর দেরি হবে না, আর ভুল সিদ্ধান্তের সম্ভাবনাও কমবে।

অফসাইডের নিয়ম কেন গুরুত্বপূর্ণ

অফসাইড নিয়ম তৈরি করা হয়েছে আক্রমণকারী দলকে যেন কোনো বাড়তি সুবিধা না পায়। যদি অফসাইড না থাকত, তাহলে আক্রমণকারী খেলোয়াড়রা গোলপোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করত বল পাওয়ার জন্য, যা খেলাকে অর্থহীন করে দিত। এই নিয়মের কারণেই ফুটবলে কৌশল ও দলগত সমন্বয়ের গুরুত্ব বাড়ে।

অফসাইড কখন হয়

অফসাইড বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো শেষ ডিফেন্ডারের অবস্থান। আক্রমণের সময় ডিফেন্ডিং দলের শেষ ডিফেন্ডারের পেছনে যদি কোনো আক্রমণকারী খেলোয়াড় থাকে, তবে তিনি অফসাইডে আছেন বলে ধরা হয়। তবে শুধু পেছনে থাকলেই অফসাইড হবে না; প্রয়োজন সেই খেলোয়াড়কে পাস দেওয়া। যে মুহূর্তে পাস দেওয়া হয়, সেই মুহূর্তে খেলোয়াড় যদি শেষ ডিফেন্ডারের পেছনে থাকেন, তবেই অফসাইড কার্যকর হয়। হাত ও বাহু (কবজি পর্যন্ত) ছাড়া শরীরের যেকোনো অংশ শেষ ডিফেন্ডারের পেছনে থাকলেই তা অফসাইড হিসেবে গণ্য হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অফসাইডের ব্যতিক্রম

কিছু ক্ষেত্রে অফসাইড প্রযোজ্য নয়। যেমন: নিজের অর্ধে থাকা খেলোয়াড় কখনো অফসাইড হন না, কারণ অফসাইড শুরু হয় প্রতিপক্ষের অর্ধ থেকে। বলের পেছনে থাকা খেলোয়াড়ও অফসাইড নন, কারণ বলের অবস্থানই মুখ্য। এছাড়া কর্নার কিক, থ্রো-ইন, গোল কিক এবং প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় থেকে সরাসরি বল পেলে অফসাইড ধরা হয় না। শুধু নিজের দলের খেলোয়াড়ের পাসেই অফসাইড হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রযুক্তির ভূমিকা

বিশ্বকাপে ব্যবহৃত সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি বলের ভেতরে থাকা সেন্সর ও স্টেডিয়ামের ১২টি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিটি খেলোয়াড়ের অবস্থান ট্র্যাক করে। এই প্রযুক্তি মিলিসেকেন্ডের মধ্যে অফসাইড শনাক্ত করে রেফারির ট্যাবলেটে তথ্য পাঠায়। ফলে দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়। আগের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে যে ভুল হতো, তা এখন আর হবে না। প্রযুক্তির চোখ এড়িয়ে অফসাইড থেকে বাঁচা প্রায় অসম্ভব।