নভোথিয়েটার প্রকল্প: অদূরদর্শিতা ও দীর্ঘসূত্রতা উদ্বেগজনক
নভোথিয়েটার প্রকল্প: অদূরদর্শিতা ও দীর্ঘসূত্রতা

দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে নভোথিয়েটার নির্মাণের উদ্যোগ বিজ্ঞানশিক্ষা, মহাকাশবিষয়ক জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষামূলক পর্যটনের প্রসারে প্রশংসনীয় ছিল। আঞ্চলিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমুখী করতে এসব প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু শত শত কোটি টাকার এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে অদূরদর্শিতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার চিত্র উদ্বেগজনক।

বরিশাল ও রংপুরে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশাল ও রংপুরে প্রকল্পের ব্যয় ও সময়সীমা কয়েক দফা বাড়ানোর পরও কাজ ঝুলে আছে। বরিশালে ৪১২ কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে ৪৬০ কোটি টাকা হয়েছে, আর রংপুরে ৪১৮ কোটি টাকার প্রকল্প ৪৪৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ভবনের কাঠামো দৃশ্যমান হলেও মূল প্রযুক্তিগত অংশ—ডোম, টেলিস্কোপ, ডিজিটাল প্রজেকশন ও ইলেকট্রোমেকানিক্যাল সরঞ্জাম—স্থাপনের কাজ এখনো বাকি। এসব অত্যাধুনিক যন্ত্র বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে। বর্তমান বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা, ডলার-সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের বর্ধিত মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

খুলনার নভোথিয়েটার প্রকল্প বাতিল

সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা খুলনায়। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে শুধু স্থান নির্ধারণ, জমি অধিগ্রহণ ও স্থানীয় আপত্তির ঘূর্ণাবর্তে পড়ে একনেকে অনুমোদিত ৫৫৩ কোটি টাকার প্রকল্পটি পুরোপুরি বাতিল হয়ে গেছে। জমি হস্তান্তরের পরও স্থানীয় কিছু আপত্তির মুখে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিকল্প স্থান না খুঁজে পুরো প্রকল্প বাতিল করে দেয়। স্থানীয় জটিলতা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বা বিকল্প স্থানে প্রকল্প সরানো সম্ভব ছিল, কিন্তু তা না করে এক যুগের প্রচেষ্টা একঝটকায় বাতিল করা প্রশাসনের চরম অদক্ষতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দেয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

উন্নয়ন প্রকল্প মানে শুধু বড় বড় দালানকোঠা নির্মাণ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অঞ্চলের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশ। বরিশাল ও রংপুরের প্রকল্প দুটি আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত আমদানিসামগ্রী এনে চলতি বছরের মধ্যেই চালু করতে হবে। একই সঙ্গে খুলনার বাতিল প্রকল্প পুনর্বিবেচনা করে উপযুক্ত বিকল্প স্থানে দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া দরকার। শত শত কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় প্রকল্প যেন আমলাতান্ত্রিক গ্যাঁড়াকলে পড়ে আলোর মুখ দেখার আগেই নিভে না যায়, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে।