বাংলা কিউআর: ২০২৬ থেকে বাধ্যতামূলক আন্তঃলেনদেন, কমবে নগদ ব্যবহার
বাংলা কিউআর: ২০২৬ থেকে বাধ্যতামূলক আন্তঃলেনদেন

ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে সারা দেশে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হচ্ছে সর্বজনীন আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা—‘বাংলা কিউআর’। এর ফলে দেশের আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থায় নগদ অর্থের ব্যবহার কমে আসার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলা কিউআর কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে আয়োজিত ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা জানান, এর ফলে প্রতারণা কমার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে। এতদিন একজন বিক্রেতাকে তার দোকানে বিকাশ, রকেট বা বিভিন্ন ব্যাংকের আলাদা আলাদা কিউআর কোড প্রদর্শন করতে হতো। বাংলা কিউআর চালুর ফলে এখন থেকে একটিমাত্র কিউআর কোডের মাধ্যমেই গ্রাহকরা যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন। এতে ছোট থেকে বড় সব ধরনের কেনাকাটা হবে আরও সহজ, দ্রুত এবং নিরাপদ।

নগদবিহীন সমাজের লক্ষ্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার জানান, ক্যাশলেস সোসাইটি বা নগদবিহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ডিজিটাল লেনদেনে মানুষের অভ্যস্ততা বাড়লে টাকা ছাপানোর খরচ কমবে এবং আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা আসবে।” অপর ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান বলেন, “ফুটপাতে ক্ষুদ্র বিক্রেতা থেকে শুরু করে বড় শপিংমল—সর্বত্রই বাংলা কিউআর ব্যবহারের ফলে নগদ টাকার ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডিজিটাল লেনদেনে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ

ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার বাড়লেও নিরাপত্তার বিষয়টি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ডিজিটাল লেনদেনে ৮১ হাজার ৪২৩টি প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে প্রায় ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। এই প্রেক্ষিতে, কর্মকর্তারা সাধারণ গ্রাহকদের লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং ব্যক্তিগত পিন বা ওটিপি কাউকে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।