জাম্বিয়ার স্বাস্থ্য খাত ডিজিটালাইজেশনে বাংলাদেশের ড্রিম৭১-এর সাফল্য
আফ্রিকার দেশ জাম্বিয়ার স্বাস্থ্য খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজ পেয়েছে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ড্রিম৭১ বাংলাদেশ লিমিটেড। জাম্বিয়া মেডিসিনস অ্যান্ড মেডিক্যাল সাপ্লাইস এজেন্সির (জেডএএমএমএসএ) কেনাকাটা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা ডিজিটাইজেশন প্রকল্পের জন্য গত শুক্রবার অনলাইনে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ড্রিম৭১ বাংলাদেশ আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রকল্পের বিস্তারিত ও বাস্তবায়ন
এই প্রকল্পের কাজ আজ শনিবার থেকেই শুরু হয়েছে, যার মোট মূল্য এক কোটি পনেরো লাখ টাকা। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে, যা জাম্বিয়ার সরকারি স্বাস্থ্য খাতের কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে। জেডএএমএমএসএ ২০১৯ সালে জাম্বিয়া মেডিসিনস অ্যান্ড মেডিক্যাল সাপ্লাইস এজেন্সি অ্যাক্ট অনুযায়ী একটি স্বায়ত্তশাসিত সরকারি সংস্থা হিসেবে পুনর্গঠিত হয় এবং দেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়, সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্ব পালন করে।
জেডএএমএমএসএ এখন তাদের সরবরাহ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে রূপান্তর করতে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের অধীনে ড্রিম৭১ একটি ইন্টিগ্রেটেড ভার্চ্যুয়াল বাজেট ও প্রকিউরমেন্ট মডিউল তৈরি করবে, যা ওষুধের বাজেট, ক্রয়প্রক্রিয়া, সরবরাহকারী ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক তদারকি একীভূত করবে। নতুন এই সিস্টেমটি জেডএএমএমএসএর বিদ্যমান ইআরপি, ওএমএস ও ডব্লিউএমএসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, যাতে একটি তাৎক্ষণিক তথ্যনির্ভর ও সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে উঠতে পারে।
ড্রিম৭১-এর প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ড্রিম৭১–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশাদ কবির এই প্রকল্প সম্পর্কে বলেন, ‘জাম্বিয়ার স্বাস্থ্য খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত। এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তি সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এমন প্রযুক্তি সরবরাহ করা, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য স্বচ্ছ ও দক্ষ জনসেবা নিশ্চিত করে।’ এই প্রকল্পটি ইউএনডিপির উপ–আবাসিক প্রতিনিধি এবং জেডএএমএমএসএর ডিরেক্টর অব প্ল্যানিং অ্যান্ড প্রজেক্টসের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে। ড্রিম৭১ শুধু সফটওয়্যার উন্নয়নই নয়; বরং জেডএএমএমএসএর প্রযুক্তি দলকে প্রশিক্ষণ দেবে, যাতে স্থানীয়ভাবে সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন সম্ভব হয়।
এই উদ্যোগটি জাম্বিয়ার স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকীকরণে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের আন্তর্জাতিক সক্ষমতাকেও তুলে ধরছে। ড্রিম৭১-এর এই সাফল্য বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।
