জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যখন বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহের প্রকোপ বাড়ছে, ঠিক তখনই শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) বিকল্প হিসেবে নতুন ধরনের কুলিং সিস্টেম উদ্ভাবন করেছেন সৌদি আরবের কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির বিজ্ঞানীরা। তাঁদের দাবি, ‘নেসকোড’ নামের নতুন এই কুলিং সিস্টেম বিদ্যুৎ ছাড়াই তীব্র গরমে ঘর ঠান্ডা রাখতে পারে।
কিভাবে কাজ করে নেসকোড?
বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, নেসকোড মূলত একটি দ্বিমুখী তাপগতিবিদ্যার চক্র অনুসরণ করে। এই সিস্টেমে শীতলীকরণ বা দ্রবীভবনপ্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে পানির মধ্যে একটি বিশেষ লবণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মিশ্রিত করা হয়। এটি একটি এন্ডোথার্মিক বা তাপগ্রাহী রাসায়নিক বিক্রিয়া তৈরি করে। এই লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়ার সময় চারপাশের পরিবেশ থেকে তাপ শোষণ করে নেয়, যার ফলে তরলটির তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায়।
পুনরায় ব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব
রয়্যাল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত গবেষণা ফলাফলে বলা হয়েছে, সিস্টেমটিকে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করতে বিজ্ঞানীরা একটি থ্রি-ডি সোলার রিজেনারেটর তৈরি করেছেন। এটি সূর্যালোক ব্যবহার করে লবণের দ্রবণ থেকে পানি বাষ্পীভূত করে ফেলে। ফলে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট আবার ক্রিস্টালাইজ হয়ে যায়। এর মাধ্যমে সিস্টেমটি পরবর্তী কুলিং সাইকেলের জন্য রিচার্জ হয়।
নেসকোড সিস্টেমটি বেশ দীর্ঘস্থায়ী এবং বারবার ব্যবহারযোগ্য। এটি ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বজায় রাখতে পারে, যা খাবার সংরক্ষণ এবং ঘর ঠান্ডা রাখার জন্য আদর্শ। এই প্রক্রিয়ায় যে জলীয় বাষ্প তৈরি হয়, তা পুনরায় বিশুদ্ধ পানি হিসেবে সংগ্রহ করা যায়। এটি মরুভূমি বা শুষ্ক অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এই সিস্টেম দিনে সৌরশক্তি সংগ্রহ করে এবং সেটি রাতে বা অন্য ঋতুতেও শীতলীকরণের কাজে ব্যবহার করা যায়।
সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নেসকোডে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট অত্যন্ত সহজলভ্য ও সস্তা। এই লবণ সচরাচর সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া এর থ্রি-ডি রিজেনারেটর কাঠামোটি খুব অল্প জায়গায় উচ্চ বাষ্পায়ন হার নিশ্চিত করে, যা অন্যান্য সৌরতাপীয় সিস্টেমের তুলনায় উৎপাদন খরচ কমিয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়নশীল দেশ এবং দুর্গম অঞ্চল যেখানে প্রথাগত বিদ্যুৎ অবকাঠামো পৌঁছানো ব্যয়বহুল, সেখানে এই প্রযুক্তি পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে বড় ভূমিকা পালন করবে।



