ইন্টারনেটকে মৌলিক নাগরিক সেবা ঘোষণার পথে পাকিস্তান
ইন্টারনেটকে মৌলিক সেবা ঘোষণার পথে পাকিস্তান

পাকিস্তান সরকার ইন্টারনেট সেবাকে পানি, বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের মতো জরুরি জনসেবামূলক ইউটিলিটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। দেশটির তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি আইনি পর্যালোচনা শেষ করে সিনেটের আইটি স্থায়ী কমিটির কাছে একটি লিখিত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে জমা দিয়েছে।

ইন্টারনেটের গুরুত্ব ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

আইটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেটের গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই সরকার ইন্টারনেটকে একটি অপরিহার্য মৌলিক সেবা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ভাবছে। সিনেট কমিটিকে মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সরকারের লক্ষ্য অর্জনে এবং ‘ডিজিটাল পাকিস্তান’ উদ্যোগকে সফল করতে ইন্টারনেটকে একটি মৌলিক গণসুবিধা হিসেবে ঘোষণা করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে পাকিস্তানের ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-গভর্নেন্স (অনলাইন সরকারি সেবা), অনলাইন শিক্ষা, ব্যাংকিং খাত এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট সংযোগের ওপর নির্ভরশীল। ফলে যেকোনো ধরনের ইন্টারনেট শাটডাউন বা সংযোগ বিচ্ছিন্নতা দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক আঘাত হানার পাশাপাশি ব্যাংকিং ও চিকিৎসা পরিষেবাকে অচল করে দিতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনি শূন্যতা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার

প্রতিবেদনে আইনি শূন্যতার বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়, পাকিস্তানে বর্তমানে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট আইন নেই যা ইন্টারনেটকে জরুরি বা মৌলিক সেবা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। এমনকি দেশের সংবিধানেও ইন্টারনেট ব্যবহারের অধিকারকে এখনো মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তাই ইন্টারনেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৌলিক পাবলিক সার্ভিস হিসেবে ঘোষণা করতে হলে হয় নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে, অথবা বিদ্যমান আইনে বড় ধরনের সংশোধনী আনতে হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনি প্রক্রিয়াটি যাতে সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে যৌথ পরামর্শের প্রস্তাব দিয়েছে আইটি মন্ত্রণালয়। এই প্রক্রিয়ায় আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন অথরিটি এবং দেশটির টেলিকম কোম্পানিগুলোকে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ

নতুন আইন প্রবর্তনের আগে সরকারকে কিছু প্রশাসনিক ও নীতিগত জটিলতার সমাধান করতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই কয়েকটি বিষয়ে স্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করতে হবে: কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা বজায় রাখার শর্তাবলী; জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণে রাখার আইনি কর্তৃত্ব ও সুনির্দিষ্ট কার্যপ্রণালী; এবং একটি কার্যকর ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণকারী বা তদারকি কাঠামো।

পাশাপাশি, ইন্টারনেটকে মৌলিক সেবা হিসেবে টিকিয়ে রাখতে হলে দেশের টেলিকমিউনিকেশন অবকাঠামো এবং সাইবার নিরাপত্তায় বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। টেলিকম অপারেটরদের নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে ব্যাকআপ নেটওয়ার্ক, দুর্যোগকালীন পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা এবং ন্যূনতম সেবার মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে।

দেশটির আইটি মন্ত্রণালয় মনে করে, এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তানের ডিজিটাল ইকোসিস্টেম আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদী ডিজিটাল লক্ষ্য পূরণ সহজ হবে। সূত্র: সামা টিভি।