বাংলাদেশ জুড়ে ইন্টারনেটের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় গ্রাহকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইন্টারনেটের গতি মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা সবাই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ইন্টারনেটের গতি কমার কারণ কী?
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের সংযোগে কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।” তবে গ্রাহকরা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন।
গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়া
রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “গত তিনদিন ধরে আমার ব্রডব্যান্ড সংযোগে ইন্টারনেটের গতি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পারছি না। আইএসপি কর্তৃপক্ষ কোনো সদুত্তর দিচ্ছে না।” একই অবস্থা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের। চট্টগ্রামের একটি কল সেন্টারের ব্যবস্থাপক রাশেদুল ইসলাম জানান, “আমাদের ব্যবসা সম্পূর্ণ ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। গতি কমে যাওয়ায় গ্রাহক সেবা ব্যাহত হচ্ছে, যা আমাদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে।”
ব্যবসায়িক প্রভাব
ইন্টারনেটের ধীর গতির কারণে দেশের ই-কমার্স খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জানান, “আমাদের ওয়েবসাইটের লোডিং টাইম বেড়ে যাওয়ায় গ্রাহকরা পণ্য অর্ডার করতে পারছেন না। এতে আমাদের দৈনিক বিক্রি প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে।” এছাড়া অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
দ্রুত সমাধানের দাবি
গ্রাহকরা বিটিআরসি এবং ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি অচিরেই সমাধান না হয়, তাহলে তারা আইনী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন। এদিকে, আইএসপিগুলো জানিয়েছে, তারা সমস্যা সমাধানে কাজ করছে এবং শিগগিরই স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে বলে আশা করছে।



