ব্যবহৃত আইফোন কেনার আগে বিশেষজ্ঞদের ৫ সতর্কবার্তা
ব্যবহৃত আইফোন কেনার আগে ৫ সতর্কবার্তা

ব্যবহৃত আইফোন কিনে অনেকেই টাকা সাশ্রয়ের সুযোগ দেখেন। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কম দামে আইফোন কেনার এই সিদ্ধান্ত অনেক সময় পরে বাড়তি খরচের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পুরোনো সফটওয়্যার, দুর্বল ব্যাটারি, ওয়ারেন্টির অভাব এবং ব্যয়বহুল মেরামতের মতো নানা ঝুঁকি থাকতে পারে ব্যবহৃত আইফোনে।

সফটওয়্যার আপডেটের সীমাবদ্ধতা

ব্যবহৃত আইফোন কেনার অন্যতম বড় অসুবিধা হলো সীমিত সফটওয়্যার আপডেট। পুরোনো মডেলগুলো তুলনামূলক কম সময় বড় ধরনের আইওএস আপডেট পায়। ফলে নতুন ফিচার ও ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন ব্যবহারকারীরা। উদাহরণ হিসেবে, স্ট্যান্ডার্ড আইফোন ১৫-এ অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ফিচারগুলো সমর্থিত নয়। যদিও অ্যাপল সাধারণত একটি আইফোনকে প্রায় সাত বছর পর্যন্ত বড় সফটওয়্যার আপডেট দেয়, তবে এটি মডেলভেদে ভিন্ন হতে পারে।

পুরনো হার্ডওয়্যারের সীমাবদ্ধতা

ব্যবহৃত আইফোন মানেই পুরনো হার্ডওয়্যার। ফলে নতুন মডেলের মতো দ্রুতগতির পারফরম্যান্স বা আধুনিক সুবিধা পাওয়া যায় না। সাম্প্রতিক আইফোনগুলোতে বেশি স্টোরেজ, উন্নত ক্যামেরা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, শক্তিশালী প্রসেসর, উন্নত ডিসপ্লে এবং কার্যকর কুলিং সিস্টেম রয়েছে। অন্যদিকে, পুরনো মডেলগুলোতে স্টোরেজও তুলনামূলক কম থাকে, যা বর্তমান সময়ের অ্যাপ ও মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারে অসুবিধা তৈরি করতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ওয়ারেন্টি ও অ্যাপলকেয়ার প্লাস সুবিধা নাও থাকতে পারে

বেশিরভাগ ব্যবহৃত আইফোন বিক্রি হয় অ্যাপলের এক বছরের ওয়ারেন্টি শেষ হওয়ার পর। অনেক ক্ষেত্রে অ্যাপলকেয়ার প্লাস সুবিধাও আর যোগ করা সম্ভব হয় না, কারণ এটি নতুন ফোন কেনার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নেওয়া যায়। ফলে ব্যাটারি পরিবর্তন, ডিসপ্লে ভেঙে যাওয়া বা অন্য কোনো হার্ডওয়্যার সমস্যার মেরামতে ব্যবহারকারীকে নিজ খরচেই অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লুকিয়ে থাকতে পারে নানা ঝুঁকি

বিশ্বস্ত রিফারবিশড বিক্রেতা থাকলেও অনির্ভরযোগ্য অনলাইন মার্কেটপ্লেস বা ব্যক্তিগত বিক্রেতার কাছ থেকে ফোন কিনলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, কিছু ফোনে নকল বা অরিজিনাল নয় এমন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হতে পারে। এছাড়া লুকানো হার্ডওয়্যার ত্রুটি, অতীতের মেরামতের ইতিহাস গোপন রাখা বা বাহ্যিক ক্ষতির মতো সমস্যাও থাকতে পারে। তাই কেনার আগে ফোনের সিরিয়াল নম্বর, ওয়ারেন্টি স্ট্যাটাস এবং ডিভাইসটির আসল পরিচয় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাটারির অবস্থা যাচাই জরুরি

ব্যবহৃত আইফোনে সবচেয়ে সাধারণ সমস্যাগুলোর একটি হলো ব্যাটারির স্বাস্থ্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা কমে যায়। ফলে ফোন বারবার চার্জ দিতে হতে পারে, পারফরম্যান্স কমে যেতে পারে কিংবা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন ব্যাটারি লাগানোর খরচও মোট ব্যয়ের সঙ্গে যোগ হয়।

তাহলে কি ব্যবহৃত আইফোন কেনা উচিত?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাজেটের মধ্যে যতটা সম্ভব নতুন মডেলের আইফোন কেনাই ভালো। আর যদি ব্যবহৃত আইফোন কিনতেই হয়, তাহলে অবশ্যই বিশ্বস্ত বিক্রেতা নির্বাচন করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাটারির স্বাস্থ্য, ওয়ারেন্টির অবস্থা এবং ভবিষ্যতের আইওএস আপডেট সমর্থন করবে কি না—এসব বিষয় ভালোভাবে যাচাই করেই কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।