ময়মনসিংহে বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ময়মনসিংহ বিভাগে একটি আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছেন। শনিবার বিকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ের পাশে শিকারীকান্দা ছত্রপুরে নিজস্ব জায়গায় এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য
প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দেশের ৬৪টি জেলায় ৬৪টি তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "এটা আমার প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আরো চারটি ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হবে।" বিভাগীয় শহরসহ ২৬টি জেলায় ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো যোগ করেন, "প্রয়োজনে অনুমোদন সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে আমরা উপজেলা পর্যায়েও তথ্য কমপ্লেক্স ভবন করার প্রকল্প হাতে নেব, ইনশাআল্লাহ।" নির্বাচনি ইশতেহারে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলে তিনি দাবি করেন।
দুর্নীতিমুক্ত ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণ
প্রতিমন্ত্রী বিগত সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে প্রকল্প নেওয়া হলেও কাজ না হওয়ার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের কাজে দুর্নীতি স্পর্শ করতে পারবে না।" গুণাগুণ ঠিক রেখে সঠিকভাবে কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকা ও দায়িত্ব
গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। কিন্তু মিস ইনফরমেশন দেবেন না।" তথ্যের অবাধ প্রবাহ বজায় রাখার পাশাপাশি মিথ্যা বা বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন তিনি।
প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য
ময়মনসিংহে ১৯.৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ তলা বিশিষ্ট এই বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের জন্য ঠিকাদারের সাথে ১৮ মাস মেয়াদি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ৪ এপ্রিল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। নির্মিতব্য কমপ্লেক্সে নিম্নলিখিত সুবিধাগুলো থাকবে:
- সিনেপ্লেক্স
- ইন্টারনেট বা সাইবার ক্যাফে
- ইনফরমেশন কিয়স্ক
- ডিজিটাল আর্কাইভ
- ডিজিটাল ল্যাব
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি প্রকল্পের গুরুত্ব ও সরকারের প্রতিশ্রুতিকে আরো শক্তিশালী করে তোলে।
এই প্রকল্পটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণের সেবা প্রদান ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরো উন্নত করবে।



