ফিফা জানিয়েছে, ২০২২ বিশ্বকাপের আগে চালু হওয়া সোশ্যাল মিডিয়া সুরক্ষা পরিষেবা (এসএমপিএস) এর মাধ্যমে তারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ৩০ মিলিয়নের বেশি অপমানজনক পোস্ট ও মন্তব্য সরিয়ে দিয়েছে। ঘৃণামূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করছে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।
ঘৃণামূলক বক্তব্য মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক দিবসে পদক্ষেপ
আন্তর্জাতিক ঘৃণামূলক বক্তব্য মোকাবিলা দিবস উপলক্ষে গত রোববার ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের চারটি আয়োজক ভেন্যুতে বৈষম্যবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে। আটলান্টা, গুয়াদালাহারা, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ভ্যাঙ্কুভারে বিশেষ ম্যাচপূর্ব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এই অনুষ্ঠানে দলের অধিনায়করা স্মারক পতাকা বিনিময় করেন, যাতে লেখা ছিল: 'আমরা একসঙ্গে খেলি। আমরা ঘৃণার বিরুদ্ধে দাঁড়াই।' চেকিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো, কোরিয়া প্রজাতন্ত্র, সুইজারল্যান্ড, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কানাডা ও কাতারের ম্যাচের সময় স্টেডিয়ামের এলইডি স্ক্রিনেও এই প্রচারণা প্রদর্শিত হয়।
ফিফার 'স্টপ হেট, প্রোটেক্ট ফুটবল' উদ্যোগ
ফিফা জানিয়েছে, এই প্রচারণা আটলান্টার ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিভিল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসে অনুষ্ঠিত 'স্টপ হেট, প্রোটেক্ট ফুটবল' সমাবেশের অংশ। এই উদ্যোগের মূল ভিত্তি ফিফা সোশ্যাল মিডিয়া সুরক্ষা পরিষেবা, যা খেলোয়াড়, কোচ, ম্যাচ অফিসিয়াল ও ফুটবলের সঙ্গে জড়িত অন্যদের লক্ষ্য করে অপমানজনক কন্টেন্ট শনাক্ত ও সরিয়ে দেয়।
ফিফার মতে, পরিষেবাটি ২০২২ সাল থেকে তার প্রতিযোগিতাগুলোতে ২৫০ মিলিয়নের বেশি পোস্ট ও মন্তব্য বিশ্লেষণ করেছে এবং ৫০টির বেশি ভাষায় ৩০ মিলিয়নের বেশি ক্ষতিকর বার্তা সরিয়ে দিয়েছে বা তাদের দৃশ্যমানতা কমিয়েছে।
চলমান বিশ্বকাপে অপমানের মাত্রা পাঁচ গুণ বেশি
সংস্থাটি জানিয়েছে, চলমান বিশ্বকাপে অপমানের মাত্রা কাতার ২০২২-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। প্রাথমিক তথ্য ইঙ্গিত দেয়, টুর্নামেন্ট চলাকালে পাঁচ গুণের বেশি অপমানজনক পোস্ট ও মন্তব্য সরানো হতে পারে। ১১ জুন ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে এসএমপিএস ৫৫ লাখের বেশি পোস্ট ও মন্তব্য পর্যালোচনা করে প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার বিষাক্ত বার্তা সরিয়েছে।
ফিফা জানিয়েছে, এই সংখ্যা ইতিমধ্যে পুরো কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে সরানো মোট অপমানজনক পোস্টের সংখ্যা (২ লাখ ৮৭ হাজার) ছাড়িয়ে গেছে। টুর্নামেন্টের প্রথম সপ্তাহে বিশ্লেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে চিহ্নিত ১ লাখ ৮৬ হাজার সম্ভাব্য হুমকি বা সহিংস কন্টেন্ট পর্যালোচনা করে ৩০ হাজারের বেশি ঘটনা প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে জানিয়েছেন।
ফিফা সভাপতির বক্তব্য
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, 'ঘৃণামূলক বক্তব্যের ফুটবলে বা সমাজে কোনো স্থান নেই। খেলোয়াড়, কোচ ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের লক্ষ্য করলে তা ফুটবলের ওপরই হামলা।' তিনি আরও বলেন, ফিফা তার শৃঙ্খলামূলক নিয়ম জোরদার করেছে, বৈষম্যবিরোধী উদ্যোগ বাড়িয়েছে এবং খেলোয়াড় ও অফিসিয়ালদের বৈষম্যমূলক আচরণ রিপোর্ট করতে ক্ষমতায়নের ব্যবস্থা চালু করেছে।
ইনফান্তিনো বলেন, 'ঘৃণামূলক বক্তব্য একটি পদ্ধতিগত চ্যালেঞ্জ, যার মোকাবিলায় শক্তিশালী জোট প্রয়োজন। ফিফার সোশ্যাল মিডিয়া সুরক্ষা পরিষেবা ও অংশীদারদের সহায়তায় আমরা ঘৃণা মোকাবিলা, ডিজিটাল স্থান নিরাপদ করতে এবং সম্মান নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করছি।'
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ফিফা জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট চলাকালে তারা পরিষেবার সক্ষমতা বাড়াতে থাকবে, যা ফুটবল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বৈষম্য দূর করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।



