ফেসবুকে মন্ত্রীদের ছবি বিকৃত করে পোস্ট: ঠাকুরগাঁওয়ে যুবক গ্রেপ্তার
ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় একাধিক মন্ত্রী ও রাজনৈতিক উপদেষ্টার ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে আবির আল আব্দুল্লাহ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা ডিজিটাল অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা নির্দেশ করে।
গ্রেপ্তারকৃত যুবকের পরিচয় ও অভিযোগের বিবরণ
গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ পীরগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের এক্তিয়ারপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আল আব্দুল্লাহ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল থেকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমেদ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মির্জা আব্বাসের ছবি বিকৃত করে বিভিন্ন মানহানিকর পোস্ট দেন। তিনি মির্জা ফখরুল, মির্জা আব্বাস ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর একত্রে একটি ছবি শেয়ার করে সেখানে ‘তিন চান্দা ভাই’ ক্যাপশন লেখেন, যা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ ছাড়া সালাহউদ্দীন আহমেদের ছবি বিকৃত করে ‘ভারতের গোলাম, অখণ্ড ভারতের নেতা শালাউদ্দীন চিম্ময় বিবেকানন্দ’ লিখে উসকানিমূলক পোস্ট করেন, যা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্য একটি পোস্টে সালাউদ্দীন আহমেদ ও আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছবি যুক্ত করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। এসব পোস্টের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচারের একটি উদাহরণ।
মামলা দায়ের ও পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া
এই ঘটনায় উপজেলা মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিদ পারভীন রিপা বাদী হয়ে গত সোমবার রাতে পীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২৬(১) ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়, যা সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা প্রতিফলিত করে। মামলা দায়েরের পরপরই অভিযানে নেমে পুলিশ অভিযুক্ত আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে, যা দ্রুত পদক্ষেপের উদাহরণ।
পীরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল হাকিম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ডিজিটাল ফরেনসিক ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে মামলা নথিভুক্ত করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং মঙ্গলবার আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে, যা অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি নির্দেশ করে।
এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার এবং ডিজিটাল অপরাধের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে। পুলিশের দ্রুত গ্রেপ্তার ও তদন্ত প্রক্রিয়া সাইবার নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়।



