ইরানে বিশ্বের দীর্ঘতম ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: ৩৭ দিনে ৮৬৪ ঘণ্টা অতিক্রম
ইরানে বিশ্বের দীর্ঘতম ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, ৩৭ দিন চলছে

ইরানে বিশ্বের দীর্ঘতম ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: ৩৭ দিনে ৮৬৪ ঘণ্টা অতিক্রম

ইরানে চলমান ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা বা ব্ল্যাকআউট এখন পর্যন্ত বিশ্বের যেকোনো দেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম জাতীয় পর্যায়ের ইন্টারনেট শাটডাউনের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

নেটব্লকসের প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য

নেটব্লকস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানিয়েছে, ইরানের এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট টানা ৩৭তম দিনে পদার্পণ করেছে। মোট ৮৬৪ ঘণ্টা অতিক্রম করার মধ্য দিয়ে এটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের অন্যান্য সব সমজাতীয় ঘটনাকে তীব্রতার দিক থেকে ছাড়িয়ে গেছে, যা একটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

অন্য অনেক দেশের তুলনায় ইরানের পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানই প্রথম দেশ যারা প্রথমে বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগের সাথে সংযুক্ত ছিল এবং পরবর্তীতে একটি জাতীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বহির্বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর বিপরীতে উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলো কখনো বৈশ্বিক সংযোগের মূল ধারায় যুক্ত ছিল না এবং দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে, যা ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্ল্যাকআউটের পেছনের কারণ ও প্রভাব

মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই দেশটির সরকার সাধারণ নাগরিকদের জন্য ইন্টারনেট অ্যাক্সেস প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানের এই নজিরবিহীন ব্ল্যাকআউটের আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময়ও ইরান কয়েক সপ্তাহব্যাপী একই ধরনের ইন্টারনেট শাটডাউন কার্যকর করেছিল, যা দেশটির ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ কৌশলের একটি ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বর্তমান পরিস্থিতির ফলে দেশটির সাধারণ মানুষ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। এই ব্ল্যাকআউট শুধুমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থাকেই ব্যাহত করেনি, বরং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা দেশটির ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত দিচ্ছে।

সূত্র হিসেবে সিএনএন-এর প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের ঘটনাকে আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে। এই পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট স্বাধীনতা ও ডিজিটাল অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত ঘটাতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।