প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে সিলেটে দুইজন গ্রেফতার
প্রধানমন্ত্রীর এপিএসের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯ সিলেটে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) র্যাব-৯ সিলেটের গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতারণার কৌশল ও অভিযানের বিস্তারিত
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছিল। তারা মূলত সরকারি চাকরি, বদলি ও পদোন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতো।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে সিলেট নগরীর কাজীটুলা এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের মূলহোতা মো. কামরুল হাসান হিমেলকে (৩২) গ্রেফতার করে র্যাব-৯। র্যাব জানায়, গ্রেফতার হিমেল প্রধানমন্ত্রীর এপিএসের ছবি ব্যবহার করে একাধিক ভুয়া ফেসবুক আইডি পরিচালনা করতেন এবং অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অর্থ আদায় করতেন।
গ্রেফতার ও উদ্ধারকৃত সামগ্রী
পরবর্তীতে হিমেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার অন্যতম সহযোগী শরীফ আহমদকেও (৪২) গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত কয়েকটি স্মার্টফোন, বাটনফোন ও বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিমেল স্বীকার করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একই কৌশলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে আসছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে একাধিক মামলা রয়েছে বলে র্যাব নিশ্চিত করেছে।
গ্রেফতার দুই প্রতারকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেটের কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কতা ও সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।



