সিআইডির পরিচয়ে প্রতারণা: সাইবার হেল্পলাইন পেজ খুলে জালিয়াতি করে গ্রেফতার
সিআইডির পরিচয়ে প্রতারণা: সাইবার হেল্পলাইন পেজে জালিয়াতি

সিআইডির পরিচয়ে প্রতারণা: সাইবার হেল্পলাইন পেজ খুলে জালিয়াতি করে গ্রেফতার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডির পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম রিপন মিয়া, যার বয়স ২৪ বছর। বুধবার রাতে ঢাকার আশুলিয়া এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন এবং আটটি সিম কার্ড জব্দ করা হয়, যা তার জালিয়াতির কার্যক্রমের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতারণার কৌশল ও ঘটনার বিবরণ

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, রিপন মিয়া ‘সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলে নিজেকে সিআইডির সাইবার ইউনিটের এসআই হিসেবে পরিচয় দিতেন। এই পেজের মাধ্যমে তিনি মানুষের হারানো মোবাইল ফোন বা মোটরসাইকেল উদ্ধার করে দেওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখাতেন এবং এভাবে অর্থ আত্মসাৎ করতেন। তার এই কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনায়, গত ৭ জানুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। ফোনটি উদ্ধারের আশায় তিনি ফেসবুকে ‘সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন’ পেজের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পেজ থেকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দেওয়া হলে ভুক্তভোগী সেখানে যোগাযোগ করেন। তখন রিপন মিয়া নিজেকে সিআইডির সাইবার ইউনিটের এসআই পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোন উদ্ধার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এই সুযোগে তিনি ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন এবং পরবর্তীতে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও তদন্তের অগ্রগতি

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রিপন মিয়াকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে যে, একই কৌশল অবলম্বন করে রিপন অন্য এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৭২ হাজার ৭০০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে রিপন মিয়া স্বীকার করেছেন যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সিআইডির বিভিন্ন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের হারানো মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধারের আশা দেখিয়ে তিনি জালিয়াতি করতেন। এছাড়াও, সিআইডির সাইবার সাপোর্ট সেন্টারে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে, যা তার অপরাধমূলক কার্যক্রমের ব্যাপকতা নির্দেশ করে।

সতর্কতা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

এই ঘটনা সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে সতর্কতা বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরে। পুলিশ কর্মকর্তারা জনগণকে অনুরোধ করেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অজানা পেজ বা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং যেকোনো সন্দেহজনক কার্যক্রমের জন্য সরাসরি পুলিশের সহায়তা নেওয়া উচিত। সিআইডি এখন রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে আরও তদন্ত চালাচ্ছে এবং অন্যান্য সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।