সিলেটের ডিসি সারোয়ারকে শোকজের ভুয়া ফটোকার্ড: আদালত অবমাননার অভিযোগে নোটিশ
ডিসি সারোয়ার শোকজের ভুয়া ফটোকার্ড: আদালত অবমাননা

সিলেটের ডিসি সারোয়ারকে শোকজের ভুয়া ফটোকার্ড: আদালত অবমাননার অভিযোগে নোটিশ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমকে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে বাধা দেওয়ার কারণে শোকজ করা হয়েছে দাবিতে একটি ফটোকার্ড ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। তবে রিউমার স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই ফটোকার্ডটি সম্পূর্ণভাবে ভুয়া এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করে তৈরি করা হয়েছে।

ফটোকার্ডের উৎস ও মিথ্যা দাবি

প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে ‘চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজিতে বাধা ডিসি সারোয়ার শোকজ’ শিরোনাম এবং ‘আমার দেশ’ পত্রিকার লোগো ও ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখ উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘আমার দেশ’ এই শিরোনামে কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। বরং, তাদের ফেসবুক পেজে ১৯ ফেব্রুয়ারিতে ‘ডিসি সারোয়ারকে শোকজ’ শীর্ষক একটি মূল ফটোকার্ড পাওয়া গেছে, যার শিরোনাম ছাড়া বাকি সব উপাদান প্রচারিত ফটোকার্ডের সঙ্গে মিলে যায়।

অর্থাৎ, ডিজিটাল সম্পাদনার মাধ্যমে মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম পরিবর্তন করে এই ভুয়া সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে, যা একটি বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

আদালতের নোটিশ ও প্রকৃত কারণ

মূল ফটোকার্ডের সঙ্গে সংযুক্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমকে আদালত কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। এটি চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজির কারণে নয়, বরং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিলেটের গোলাপগঞ্জে গুলির আদেশ প্রদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ না করায় এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এর আগে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সিলেটের আমলি আদালত নম্বর-২ এর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার এই আদেশ দেন। আদালত উল্লেখ করেন, তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ না করায় মামলার তদন্তকাজ বিলম্বিত হচ্ছে, যা ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট দায়ের হওয়া মামলার বিচারকাজ শুরু করতে বাধা সৃষ্টি করছে।

আদালতের মতে, দীর্ঘদিন ধরে তথ্য সরবরাহ না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল।

সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা ও সতর্কতা

এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া তথ্য প্রচারের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্যবহারকারীদের উচিত যেকোনো সংবাদ বা ফটোকার্ড শেয়ার করার আগে এর সত্যতা যাচাই করা। বিশেষ করে, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ সংবলিত পোস্টগুলোর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

রিউমার স্ক্যানার টিমের মতো উদ্যোগগুলি এই ধরনের বিভ্রান্তি দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তবে, ডিজিটাল যুগে ভুয়া সংবাদের বিস্তার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সিলেটের জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগটি আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে, এবং ভুয়া ফটোকার্ডটি এই প্রসঙ্গে একটি অপপ্রচার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।