লক্ষ্মীপুরের জ্যেষ্ঠ জজের ফোন হ্যাক, প্রতারক চক্রের নতুন কৌশল
প্রতীকী ছবি। লক্ষ্মীপুরের জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন সম্প্রতি একটি অপ্রত্যাশিত ফোন কল পেয়ে বিস্মিত হন। কলকারী ব্যক্তি নিজেকে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) করপোরাল হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাবি করেন যে, বিচারক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধানসহ উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করে মেসেজ দিয়েছেন।
প্রতারণার ধাপে ধাপে ঘটনা
গত বুধবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে এই কলটি আসে। বিচারক শাহীন উদ্দিন প্রথমে বিস্মিত হলেও পরে কলকারীর বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা মেসেজ দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত করে মূল দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত করব। আপনার মোবাইলে কিছু তথ্য আমাদের দিন। এরপর আপনার ফোন বন্ধ করে রাখুন।’
বিচারক কথামতো তথ্য দিয়ে ফোন বন্ধ রাখার পরই তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর হ্যাক হয়। এরপর জরুরি প্রয়োজন উল্লেখ করে এই হ্যাক করা নম্বর থেকে বিভিন্নজনের কাছ থেকে বিকাশ নম্বর দিয়ে টাকা চাওয়া শুরু হয়। বিষয়টি সন্দেহ হলে কয়েকজন সরাসরি বিচারকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখনই হ্যাক হওয়ার ঘটনা প্রকাশ পায়।
পুলিশের তদন্ত ও সতর্কতা
ঘটনার পর ওই দিন বিকেলেই জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত নাজির মো. জহিরুল ইসলাম লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, ‘ঘটনার পরপরই তিনি (বিচারক মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন) আমাকে জানিয়েছেন। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নম্বর ট্র্যাকিং ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতারণার ফাঁদে পা না দিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি। পরিচিত বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করেই মূলত টাকা চাওয়া হয়। এমনটি হলে টাকা না দিয়ে ওই পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।’
সাইবার অপরাধের বৃদ্ধি ও প্রতিরোধ
এই ঘটনা সাইবার অপরাধের একটি নতুন কৌশল হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যেখানে প্রতারকরা সরকারি বা নিরাপত্তা সংস্থার নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অজানা নম্বর থেকে কল এলে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
লক্ষ্মীপুর পুলিশের তদন্ত দল এখন প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে কাজ করছে, আশা করা হচ্ছে দ্রুত প্রতারক চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। এই ঘটনা সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
