ইরানে টানা ৪৮ ঘণ্টার বেশি ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, নেটব্লকসের পর্যবেক্ষণে উদ্বেগ
ইরানে টানা ৪৮ ঘণ্টার বেশি ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

ইরানে টানা ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন

গত ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইরানে লাখ লাখ মানুষ ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস। সোমবার (২ মার্চ) সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। নেটব্লকসের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত ইরানের ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে, যা দেশটির ডিজিটাল অবকাঠামোতে একটি বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে।

অনলাইন পরিষেবা সীমিত এবং যোগাযোগ প্রায় অসম্ভব

এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের ফলে অনলাইন পরিষেবা মারাত্মকভাবে সীমিত হয়েছে এবং দেশের বাইরে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নেটব্লকসের তথ্যমতে, এই সংযোগ বিচ্ছিন্নতা ইরানের নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে, অনলাইন ব্যাংকিং, ই-কমার্স এবং সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যা অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে সম্পর্কিত

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট দেশের চলমান সংঘাত ও রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ইরানে বিভিন্ন সময়ে ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নজির রয়েছে, বিশেষ করে গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে টানা কয়েক সপ্তাহ দেশটিতে ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে, বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন বলে মনে করা হচ্ছে।

সিএনএন প্রতিনিধিদের পর্যবেক্ষণ: সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট নয়

বর্তমানে তেহরানে অবস্থানরত সিএনএন-এর প্রতিনিধিরা জানান, গত মাসের মতো এবার সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট বা শতভাগ বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়নি; বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে অনলাইন সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তারা উল্লেখ করেন যে, এই সংযোগ বিচ্ছিন্নতা মূলত তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং বড় ধরনের বিক্ষোভ দানা বাঁধতে না দেওয়ার কৌশল হিসেবেই গ্রহণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইতিহাসে ইন্টারনেট বন্ধের নজির

ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ রাখার এই ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও, বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা বিক্ষোভের সময়, সরকার ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত বা বন্ধ করে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গত জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় টানা কয়েক সপ্তাহ ইন্টারনেট বন্ধ ছিল, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। বর্তমান ব্ল্যাকআউটও সেই ধারাবাহিকতায় একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও তথ্য নিয়ন্ত্রণ নীতির প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ইরানের নাগরিকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। নেটব্লকসের মতো সংস্থাগুলির পর্যবেক্ষণে এই ঘটনা সাইবার নিরাপত্তা ও মানবাধিকার ইস্যুতে নতুন আলোচনার সূত্রপাত ঘটাতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।