চীন সফর শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রতিনিধিদল চীনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া সব উপহার, স্মারক এবং ব্যবহার করা ফোন বেইজিংয়েই ফেলে রেখে খালি হাতে দেশে ফিরেছেন। এই ঘটনা সফরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
উপহার নয়, সবই গেল আবর্জনার ঝুড়িতে
দুই দিনের সফরে মার্কিন প্রতিনিধিদল চীনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পেয়েছিল 'বার্নার ফোন' (অস্থায়ী ব্যবহারের ফোন), ল্যাপেল ব্যাজ, সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্র এবং বিভিন্ন স্মারক উপহার। কিন্তু সফর শেষে বিমানে ওঠার আগে সবকিছুই ফেলে দেওয়া হয়। বিমানের সিঁড়ির নিচে রাখা আবর্জনার ঝুড়িতে একে একে ফেলে দেওয়া হয় উপহার ও ব্যবহৃত সামগ্রী। এমনকি একটি ছোট স্যুভেনিরও সঙ্গে নেননি তারা।
কেন এই অস্বাভাবিক সতর্কতা?
এর পেছনে মূল কারণ ছিল গুপ্তচরবৃত্তি ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন উদ্বেগ। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত নজরদারি, তথ্য চুরি ও সাইবার হামলা নিয়ে উত্তেজনা চলছে। ফলে ট্রাম্পের সফরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল অত্যন্ত কড়াকড়ি। ওয়াশিংটনে ফেরার আগে ট্রাম্প নিজেও প্রকাশ্যে স্বীকার করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয় দেশই একে অপরের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালায়।
ব্যক্তিগত মোবাইল-ল্যাপটপও নেয়নি মার্কিন দল
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা শুধু সফরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। চীনে যাওয়ার আগেই ট্রাম্প ও তার প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নিজেদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস যুক্তরাষ্ট্রেই রেখে যান। সম্ভাব্য হ্যাকিং ও নজরদারির ঝুঁকি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন জেনসেন হুয়াং এবং ইলন মাস্কের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বরাও।
'বার্নার ফোন' কী এবং কেন ব্যবহার করা হয়?
সফরের সময় প্রতিনিধিদের হাতে দেওয়া হয়েছিল 'বার্নার ফোন'। এটি মূলত সাময়িক ব্যবহারের জন্য তৈরি কমদামি ফোন, যাতে আধুনিক সুবিধা খুব সীমিত থাকে। এই ধরনের ফোন হ্যাক হলেও তেমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না। তাই বিদেশ সফর, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ বা সংবেদনশীল দেশে সফরের ক্ষেত্রে অনেক সময় এ ধরনের ফোন ব্যবহার করা হয়। চীন সফরে সাইবার নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখেই মার্কিন প্রতিনিধিদের এই ফোন ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার আগে সেই ফোনগুলোও ধ্বংস করে ফেলা হয়।
বন্ধ মোবাইলও হতে পারে নজরদারির শিকার
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সতর্কতা জারি করে আসছে, বিশেষ করে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে। আর সেই তালিকায় অন্যতম নাম চীন। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্রবেশ করিয়ে তথ্য চুরি করা হতে পারে। এমনকি সুইচ-অফ করা মোবাইল ফোন থেকেও তথ্য সংগ্রহ বা নজরদারির চেষ্টা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এই ধরনের সম্ভাবনা এড়াতেই সফরে কেউ ব্যক্তিগত মোবাইল সঙ্গে নেননি এবং চীন থেকে পাওয়া কোনো ইলেকট্রনিক সামগ্রীও যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত নেওয়া হয়নি।



