অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ বুধবার (৬ মে) সকালটা ছিল বেশ আরামদায়ক। রাজধানীতে সকালে বৃষ্টি ছিল না, আবার খুব বেশি রোদও দেখা যায়নি। তবে এরই মধ্যে খবর এলো যে ব্যস্ততম ফার্মগেটে একটি চলন্ত মাইক্রোবাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে হতাহতের কোনো ঘটনা না ঘটলেও যানটি পুড়ে গেছে। এমন খবর শুধু আজ নয়, প্রায়শই পাওয়া যায়। ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, সকালে মাইক্রোবাসটিতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুন লেগেছে।
গাড়িতে আগুন লাগার কারণ
যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়াও আরও বিভিন্ন কারণে গাড়িতে আগুন লাগতে পারে। রাজধানীর ‘পাথওয়ে ড্রাইভিং স্কুল’ এ নিয়ে একগুচ্ছ কারণ ব্যাখ্যা করেছে। বিআরটিএর নিবন্ধনভুক্ত এই ড্রাইভিং স্কুলের নির্দেশনাগুলো পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়া
দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত গতি বা পর্যাপ্ত বিরতি না দিলে ইঞ্জিনে তাপমাত্রা বাড়ে। পিস্টন ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের ঘর্ষণে ইঞ্জিন গরম হয়ে আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ফুয়েল ট্যাংকে লিকেজ
জ্বালানি অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। ফুয়েল ট্যাংকে ছিদ্র বা ত্রুটি থাকলে তা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। সামান্য লিকেজও অবহেলা করা উচিত নয়।
ইলেকট্রিক তারে ত্রুটি
গাড়ির তারের সংযোগ ঠিকভাবে না করা হলে স্পার্কিং থেকে আগুন লাগতে পারে। সার্ভিসিংয়ের সময় এ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
ব্যাটারির ভুল ব্যবহার
নির্ধারিত আকার ও ভোল্টেজের বাইরে ব্যাটারি ব্যবহার করলে শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি বাড়ে। এতে আগুন লাগতে পারে।
অতিরিক্ত ভোল্টেজের হেডলাইট
নির্ধারিত ক্ষমতার চেয়ে বেশি ভোল্টেজের লাইট ব্যবহার করলে লাইটিং সিস্টেম অতিরিক্ত গরম হয়ে ফিউজ বক্সে প্রভাব ফেলতে পারে, যা আগুনের কারণ হতে পারে।
অপরিষ্কার কুলিং ফ্যান
কুলিং ফ্যান ঠিকমতো কাজ না করলে ইঞ্জিন ঠান্ডা থাকতে পারে না। ফলে ইঞ্জিন ওভারহিট হয়ে আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি হয়।
ক্যাটালিটিক কনভার্টারের তাপ
এক্সস্ট সিস্টেমের এই অংশে উচ্চ তাপমাত্রা তৈরি হয়। ইঞ্জিনের বিভিন্ন ত্রুটির কারণে তাপমাত্রা আরও বেড়ে গেলে তা আগুনের কারণ হতে পারে।
আগুন প্রতিরোধে করণীয়
- গাড়ি প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে চলা
- নির্ধারিত ভোল্টেজের হেডলাইট ব্যবহার করা
- ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হলে গাড়ি থামিয়ে ঠান্ডা করা
- বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ সংযোজনের ক্ষেত্রে দক্ষ টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়া
- ইঞ্জিন ঠান্ডা রাখতে কুলেন্ট ব্যবহার করা
- সিএনজি বা এলপিজির গন্ধ পেলে দ্রুত পরীক্ষা করানো
- গাড়িতে অগ্নিনির্বাপণযন্ত্র রাখা
সচেতনতা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণই পারে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে।



