আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এজলাসে একজন আইনজীবী মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন, আরেকজন পারবেন না—এটা হয় না বলে উল্লেখ করেছেন এই ট্রাইব্যুনাল। আজ বুধবার শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এই কথা বলেন।
শুনানির বিবরণ
আজ বুধবার সকালে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ শুনানি হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো.শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য
শুনানির একপর্যায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী নাজনীন নাহার বলেন, ট্রাইব্যুনালে তাঁরা আইনজীবী হিসেবে আসেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের ফটক থেকে এজলাস পর্যন্ত আসতে মনে হয় না তিনি একজন আইনজীবী। ট্রাইব্যুনালের ফটকে নাম পরিচয় লেখে প্রবেশ করতে হয়। আবার এজলাসে আসার সময় মোবাইল রেখে আসতে হয়। অথচ এজলাসে প্রসিকিউশন পক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে মোবাইল থাকে।
তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, কখন কে কী করে, সে জন্য নিরাপত্তার খাতিরে (মোবাইল) আনতে দেওয়া হয় না।
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহিন এম রহমান বলেন, ট্রাইব্যুনালের এজলাসে মোবাইল ব্যবহারের কিছু নিয়মনীতি থাকা উচিত। আইনজীবীরা লাইসেন্সধারী। কেউ নিয়ম ভাঙলে তাঁকে আইনের আওতায় আনতে পারেন। ট্রাইব্যুনালে পুলিশ সদস্য নিয়ম ভেঙেছে, তাঁদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল থেকে পুলিশ সরিয়ে দেওয়া হয়নি।
আইনজীবী নাজনীন নাহার বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ করলাম, তাহলে এই বৈষম্য কেন?
ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ
তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, হ্যাঁ, বৈষম্য থাকতে পারে না। একজন মোবাইল আনতে পারবেন, আরেকজন পারবেন না, এটা হয় না।
ট্রাইব্যুনাল আরও বলেন, প্রসিকিউশনের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে যথাযথ কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা দেখা হবে।
পটভূমি
উল্লেখ্য, ট্রাইব্যুনালের এজলাসে প্রসিকিউশনের (রাষ্ট্রপক্ষের) আইনজীবীরা মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এজলাসে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারেন না। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন হলে তখন থেকেই আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এজলাসে মোবাইল নিয়ে প্রবেশের বিষয়ে সমতার দাবি করে আসছেন।



