কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। আজ বুধবার সকালে কক্সবাজার শহর থেকে সড়কপথে প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আশ্রয়শিবিরে যায়।
পরিদর্শন কার্যক্রম
বেলা তিনটা পর্যন্ত প্রতিনিধিদলটি মধুরছড়া আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-৪) বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) পরিচালিত খাদ্য বিতরণকেন্দ্র, এলপিজি বিতরণকেন্দ্র, বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১৮) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্যাম্প-১৮ পশ্চিমের এমএসএফ হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করে। এ সময় আশ্রয়শিবিরের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
মতবিনিময় সভা
পরিদর্শন শেষে বিকেল পাঁচটার দিকে কক্সবাজার শহরে ফিরে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি) কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থার (আইএনজিও) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন প্রতিমন্ত্রী। সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক। তবে রোহিঙ্গাদের সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকার বদ্ধপরিকর। আমরা চাই, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে গিয়ে নিরাপদে বসবাস করুক, কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করুক এবং তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পাক।’
বৈশ্বিক বিভিন্ন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব হারাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্ববাসীরও। রোহিঙ্গা সংকট দেশের অর্থনীতি ও জনসংখ্যার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে, তবু মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আমলে দুই দফায় সফলভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছিল।
আলোচনা ও সমন্বয়
প্রতিমন্ত্রী জানান, মিয়ানমার সরকার, আরাকান আর্মিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি চীন, ভারত, আসিয়ানভুক্ত দেশ, মুসলিম বিশ্ব ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গেও সমন্বিত উদ্যোগে সংকট সমাধানে আলোচনা চলছে।
চ্যালেঞ্জ ও উদ্যোগ
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক তহবিল কমে যাওয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, খাদ্যসংকট দেখা দিচ্ছে এবং বাসস্থানের পরিস্থিতিও দুর্বল হয়ে পড়ছে। এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে সরকার।
পরিদর্শনকালীন পর্যবেক্ষণ
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও চলমান মানবিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। তিনি খাদ্য বিতরণ, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা কার্যক্রম ও নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ক্যাম্প-৪–এর সিআইসি কার্যালয়ে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তারা দ্রুত প্রত্যাবাসন জোরদারের আহ্বান জানান। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ক্যাম্প ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও মানবিক করার নির্দেশনা দেন।
প্রতিনিধিদল
প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার উইংয়ের মহাপরিচালক তৌফিক-উর রহমান, পরিচালক (এসএমও) শামীমা ইয়াসিন, এপিএস মোহাম্মদ ফজলুল হক ও সহকারী সচিব জাহিদ হাসান।



