যুক্তরাষ্ট্র ও নরওয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তারকা বা ইনফ্লুয়েন্সার হওয়ার আকাঙ্ক্ষা দ্রুত বাড়ছে। প্রায় ৬০ শতাংশ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী জানিয়েছে, তারা ইনফ্লুয়েন্সার হতে চায় বা এই মাধ্যমের প্রভাবে ভবিষ্যৎ পেশা নির্ধারণ করছে।
গবেষণার পদ্ধতি ও ফলাফল
২০২১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২৪ সাল থেকে নরওয়েতে এই গবেষণা চালাচ্ছেন গবেষকেরা। সর্বশেষ পর্যায়ে উইসকনসিনের ৭-১১ বছর বয়সী ৮০ শিশু ও মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকের ১৪০ শিক্ষার্থী এবং নরওয়ের ৬০ জনের বেশি শিশু অংশ নেয়। তাদের 'আমি বড় হয়ে হতে চাই...' বাক্যটি পূরণ করতে দেওয়া হয় এবং পেশা সম্পর্কে জানার উৎস জিজ্ঞাসা করা হয়।
শিশুদের উত্তর ও মিল
গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক ও উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাথিউ সিমোনিও বলেন, নরওয়ের এক দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইউটিউবের লোগো এঁকে উত্তর দিয়েছিল। উইসকনসিনের শিশুরাও একই ধরনের উত্তর দিয়েছে। অনেক শিশু ইউটিউব ইনফ্লুয়েন্সার হতে চায়। কেউ কেউ শুধু ইউটিউব বা টিকটকের লোগো এঁকে ইনফ্লুয়েন্সার হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে, তবে কী কনটেন্ট তৈরি করবে তা স্পষ্ট নয়।
সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব
অধ্যাপক সিমোনিওর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের পেশাগত কল্পনায় আগের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। এক শিক্ষার্থী জানিয়েছে, অনলাইন ভিডিও দেখে সে সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী হতে চায়, যদিও তার বাড়ি থেকে নিকটতম সমুদ্র ১ হাজার ৩০০ মাইলের বেশি দূরে। শিশুরা মনে করে, ইনফ্লুয়েন্সাররা খ্যাতি ও অর্থ দুটোই পায়।
অন্যান্য পেশার প্রতি আগ্রহ
বয়স বাড়ার সঙ্গে কিছু শিক্ষার্থী বিদ্যুৎ প্রকৌশলী, শিক্ষক, প্রকৌশলী বা ওয়েল্ডার হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে ছোট শিশু থেকে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ইনফ্লুয়েন্সার হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বেশি। যারা বিখ্যাত হতে চায় না, তারাও সামাজিক মাধ্যমের ভিডিও দেখে নির্দিষ্ট পেশায় আগ্রহী হয়েছে। জনপ্রিয় পেশার তালিকায় ফুটবলার, সংগীতশিল্পী, অভিনেতা ও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে 'রাজকন্যা' হওয়ার স্বপ্নও ছিল।



