বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় বরগুনার পাথরঘাটার জেলেদের জালে একটি অস্বাভাবিক লাল রঙের ড্রোনসদৃশ বস্তু আটকা পড়েছে। বস্তুটি উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বস্তুটিকে মিসাইল মনে করে আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন অনেকেই। সবশেষ খবর পেয়ে জেলেদের কাছ থেকে সেটি উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ
সোমবার (১ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাথরঘাটা থানার মোবাইল ডিউটি অফিসার সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সোহান। এর আগে গত রোববার বিকেল ৪টার দিকে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারের সময় সেটি জেলেদের জালে ধরা পড়ে। স্থানীয় জেলে মিরাজ হোসেন জানান, পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের খলিফার হাট এলাকার একটি মাছ ধরার ট্রলার বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় জাল তুলছিল। এ সময় বিমানের আকৃতির একটি রহস্যময় বস্তু জালে আটকা পড়ে।
বস্তুটির সঙ্গে ডানা ও পাখার মতো অংশ ছিল। জালে পেঁচিয়ে যাওয়ায় সেটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নদীতে পড়ে যায়। জালে আটকানো বস্তুটি মিসাইল মনে করে ভয় পেয়েছিলাম। তীরে ফিরে পুলিশকে (জরুরি সেবা নাম্বার-৯৯৯) কল দিয়েছি। এদিকে জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে বস্তুটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বস্তুটি লম্বাটে, উজ্জ্বল লাল রঙের এবং দেখতে অনেকটা ছোট আকারের বিমানের মতো। অজানা এই বস্তুকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বস্তুটি সমুদ্রের ঠিক কোন স্থানে উদ্ধার করা হয়েছে কিংবা এটি কোন দিক থেকে এসেছে সে বিষয়ে জেলেরা সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
স্থানীয়দের ধারণা
স্থানীয়দের ধারণা, এটি সমুদ্রের তলদেশে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত কোনো বিশেষ ড্রোন বা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র হতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এটি কোনো বিদেশি সামরিক মহড়া বা গবেষণা কার্যক্রমের অংশও হতে পারে। যদিও এসব বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের বক্তব্য
সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সোহান বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে বিমানের আকৃতি একটি বস্তু উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



