শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত চামড়া শিল্পের রফতানি আয় ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে সরকার ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধী দল (জামায়াতে ইসলামী)-এর সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম খানের এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।
সাভার চামড়া শিল্পনগরীর সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ
সাভার চামড়া শিল্পনগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খাতটিকে পরিবেশসম্মত ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম শিল্পে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার আধুনিক প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মন্ত্রী জানান, সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) কারিগরি মূল্যায়ন ইতোমধ্যে ইতালীয় প্রতিষ্ঠান ইতালপ্রোজেত্তি সম্পন্ন করেছে।
সিইটিপির সক্ষমতা বৃদ্ধি
মন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী সিইটিপির বর্জ্য শোধন সক্ষমতা জরুরি ভিত্তিতে ২৫ হাজার ঘনমিটারে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় সক্ষমতা ৪০ হাজার এবং পরবর্তীতে ৫০ হাজার ঘনমিটারে উন্নীত করতে প্রস্তুত করা হবে আলাদা নকশা ও ডিজাইন।
নিজস্ব বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন
কেন্দ্রীয় শোধনাগারের ওপর চাপ কমাতে ছয়টি ট্যানারিকে নিজস্ব বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। এছাড়া আরও ২০ থেকে ২৫টি তুলনামূলক বড় ট্যানারিকে নিজস্ব ইটিপি স্থাপনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বর্জ্যকে মূল্যসংযোজিত পণ্যে রূপান্তর
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তিনি বলেন, ট্যানারি বর্জ্যকে মূল্যসংযোজিত শিল্পপণ্যে রূপান্তরের মাধ্যমে সরকার সার্কুলার ইকোনমি বা পুনর্ব্যবহারভিত্তিক অর্থনীতির ধারণা বাস্তবায়ন করছে। মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ জে-ডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোম্পানি লিমিটেড ক্রোম শেভিং ডাস্ট থেকে শিল্পে ব্যবহারের উপযোগী প্রোটিন পাউডার উৎপাদন শুরু করেছে। এ ছাড়া ফ্লেশিং বর্জ্য থেকে ট্যালো ও জৈব সার উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাঁচা কাটিং বর্জ্য থেকে জেলাটিন উৎপাদন ও রফতানিও সফলভাবে চলমান রয়েছে।
ঋণ ও নগদ সহায়তা সহজীকরণ
চামড়া শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণ ও নগদ সহায়তা সহজ করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান শিল্পমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক মান অর্জন
মন্ত্রী বলেন, “আমরা আশা করছি, ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে সমন্বিত রোডম্যাপ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক এবং পরিবেশসম্মত শিল্পে পরিণত হবে।” মন্ত্রী আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক মান অর্জন এবং লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজির) সনদ অর্জনে ট্যানারি মালিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি, সভা, সেমিনার, কর্মশালা ও সক্ষমতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে।”



