বাংলাদেশের পাটপণ্য রফতানি হুমকির মুখে, সরকার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে
পাটপণ্য রফতানি হুমকির মুখে, সরকার উদ্যোগী

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে বলেছেন, স্বল্পমূল্যের কৃত্রিম তন্তুর (সিনথেটিক ফাইবারের) সহজ লভ্যতা ও ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের পাটপণ্য রফতানি হুমকির মুখে পড়ছে।

উচ্চমূল্যের পাটপণ্য উৎপাদনে পিছিয়ে বাংলাদেশ

তিনি বলেন, উচ্চমূল্য সংযোজিত বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদন এবং নতুন রফতানি বাজার অনুসন্ধানে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সপ্তম বৈঠকে লিখিত উত্তর ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ঐতিহ্যবাহী পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা

সংরক্ষিত নারী আসন-৩৩৫-এর সদস্য সেলিনা সুলতানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পাটপণ্য রফতানির বড় অংশ এখনও সুতা, বস্তা ও হেসিয়ান কাপড়ের মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে উচ্চমূল্য সংযোজিত বহুমুখী পাটপণ্যের উৎপাদন ও রফতানি এখনও পর্যাপ্ত নয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাটের ব্যবহার বাড়াতে স্কুলব্যাগ বিতরণ

সংরক্ষিত আসন ৩০২-এর সদস্য শিরিন সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পাটের ব্যবহার বাড়াতে সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে।

পরিবেশ দূষণ কমাতে পাটজাত মোড়ক আইন

মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং দেশে পাটপণ্যের চাহিদা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার ২০১০ সালে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন’ প্রণয়ন করেছে।

তিনি জানান, চলতি বছরের মে মাসে দেশব্যাপী পরিচালিত ৯৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন লঙ্ঘনের দায়ে মোট ৬ লাখ ২৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে। এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৮৬৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে মোট ৫৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাটপণ্য রফতানির প্রতিবন্ধকতা

মন্ত্রী আরও বলেন, কাঁচা পাটের বাজারে অস্থিরতার কারণে পাটপণ্য তৈরিতে মূল্য বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ থাকায় বিশ্ববাজারে অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়। এখনও রফতানির বড় অংশ ঐতিহ্যবাহী পণ্য যেমন-সুতলি, বস্তা, হেসিয়ান-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ, উচ্চমূল্যের বৈচিত্রময় পণ্য উৎপাদন ও রফতানি এখনও যথেষ্ট নয়। অধিকাংশ পাটকলে পুরোনো প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। দেশে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব টেস্টের সুবিধা না থাকার কারণে রফতানিকারকরা পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন। পাটজাত পণ্যের নতুন বাজার অনুসন্ধান ও ব্র্যান্ডিং কার্যক্রমে এখনও আমরা পিছিয়ে রয়েছি।

প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকারের উদ্যোগ

মন্ত্রী সংসদে জানান,

  • কাঁচাপাটের বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য কাঁচা পাট রফতানি বন্ধ রাখা হয়েছে।
  • পাট অধিদফতরের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।
  • আন্তর্জাতিক মানের পাটপণ্য পরীক্ষাগার স্থাপন ও সনদ প্রদানের লক্ষ্যে পাট অধিদফতর কাজ করছে।
  • বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও সরকার পাটপণ্য রফতানিকারকদের নগদ আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করছে।
  • উচ্চমূল্যের বৈচিত্রময় পণ্য উৎপাদন সক্ষমতা তৈরিতে সরকার জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার পিএলসি (জেডিপিসি)-এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র পাটশিল্প উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান, পণ্য বাজারজাতকরণ ও ব্র্যান্ডিং-এ সহায়তা প্রদান করছে।

মন্ত্রী সংসদে জানান, ২০২০ সালে বন্ধঘোষিত বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি সরকারি পাটকল বেসরকারিখাতে ইজারা প্রদানের মাধ্যমে উন্নতপ্রযুক্তিতে পাটপণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করছে। ইতোমধ্যে ৯টি মিল চালু করা হয়েছে।