গ্যাস সংকটে ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ, প্রতিদিন ক্ষতি ২৮০০ মেট্রিক টন
গ্যাস সংকটে ঘোড়াশাল পলাশ সার কারখানা বন্ধ

গ্যাস সংকটে ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ

দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ও পরিবেশবান্ধব ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কারখানাটির প্রকল্প পরিচালক সাইদুর রহমান। তিনি জানান, দুই দিন আগে বুধবার থেকেই ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানাসহ দেশে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারখানা উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

প্রতিদিন দুই হাজার ৮০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন ব্যাহত

নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত এই সারকারখানায় দৈনিক দুই হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। কারখানা সূত্রে জানা যায়, উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিদিন দুই হাজার ৮০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা দেশের কৃষি খাতের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। এই সারকারখানার সার উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে গ্যাসনির্ভর একটি প্রক্রিয়া হওয়ায় গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে উৎপাদন থেমে যায়।

গ্যাসের চাহিদা ও মজুত সার

সূত্র আরও জানা যায়, সার কারখানাটি গ্যাস সংকটে বন্ধ হওয়ার পর গুদামে ৫ লাখ ২৫ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। কারখানাটিতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৭১-৭২ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। তা ছাড়া ৫২-৫৩ পিএসআই গ্যাস পাওয়া গেলেও উৎপাদন চালিয়ে রাখা যায়, কিন্তু বর্তমান সংকটে সেই পরিমাণ গ্যাসও সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এই পরিস্থিতি দেশের সার উৎপাদন শিল্পে একটি গুরুতর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস সংকট চলতে থাকলে কৃষি উৎপাদনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কারখানা কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে উৎপাদন পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।