চামড়া শিল্পের সংকট উত্তরণে জাতীয় চামড়া বোর্ড গঠনের দাবি
চামড়া শিল্পের সংকটে জাতীয় বোর্ড গঠনের দাবি

দেশের সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পকে সংকট থেকে উত্তরণে একটি পৃথক ‘জাতীয় চামড়া বোর্ড’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে সহজ ঋণ, রাসায়নিক আমদানিতে জটিলতা নিরসন, আন্তর্জাতিক সনদ পাওয়ার বাধা দূর এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘অস্তিত্ব সংকটে চামড়াশিল্প: উত্তরণের উপায় অনুসন্ধান’ শীর্ষক সেমিনারে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সেমিনারের আয়োজন করে লেদার ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ। এতে চামড়া খাতের ব্যবসায়ী, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক নেতারা অংশ নেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক সাদাত হোসেন। তিনি বলেন, দেশের চা শিল্পের জন্য চা বোর্ড এবং বস্ত্র খাতের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় থাকলেও চামড়া শিল্পের জন্য কার্যকর কোনো অভিভাবক প্রতিষ্ঠান নেই। ফলে সম্ভাবনাময় এই খাত দীর্ঘদিন ধরে নীতিগত অবহেলার শিকার হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি অভিযোগ করে বলেন, চামড়া খাতে ৪০ শতাংশের বেশি মূল্য সংযোজন হলেও এই শিল্প কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পায় না। অপরদিকে, তুলনামূলক কম মূল্য সংযোজন করেও তৈরি পোশাক খাত বড় পরিসরে প্রণোদনা সুবিধা ভোগ করছে। তাই চামড়া শিল্পকে রফতানিমুখী ও প্রতিযোগিতামূলক করতে দ্রুত একটি জাতীয় চামড়া বোর্ড গঠন জরুরি।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবেশসম্মত উৎপাদনের শর্ত পূরণ করতে না পারায় বাংলাদেশের ট্যানারিগুলো কাঙ্ক্ষিত সনদ অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ট্যানারিগুলোতে ছোট আকারের ইটিপি স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়, যাতে তারা ২০ বছরের মধ্যে সহজ কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করতে পারেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বক্তারা আরও বলেন, প্রতিবছর কোরবানির মৌসুমে বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ না হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়। এজন্য মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ঋণ, পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ, রাসায়নিক দ্রব্য আমদানিতে সহজীকরণ এবং হিমাগার নির্মাণের দাবি জানানো হয়।

দেশীয় বাজার সম্প্রসারণেও গুরুত্বারোপ করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য চামড়ার জুতা ও ব্যাগ ব্যবহারে উৎসাহমূলক নীতি গ্রহণের প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন চামড়া শিল্পনগরী গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আবদুল মুত্তালিব বলেন, বিশ্বে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজারের আকার প্রায় ৫৬০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ যদি এর মাত্র ১ শতাংশ বাজারও দখল করতে পারে, তাহলে এ খাতের রপ্তানি আয় ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে। তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের চামড়া শিল্পে এখনও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

সভায় সারোয়ার তুষার বলেন, চামড়া খাত দেশের জন্য ‘সোনার খনি’ হতে পারত। কিন্তু রাজনৈতিক ও নীতিগত দুর্বলতার কারণে এ শিল্পের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, খুলনা-যশোর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে চামড়া পাচার হচ্ছে।

এ সময় কামাল হোসেন চামড়া শিল্পের সমস্যাগুলো জাতীয় সংসদসহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার আশ্বাস দেন। এছাড়া বক্তব্য দেন আবদুল্লাহ আল আমিন।

সেমিনারে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা বলেন, যথাযথ নীতিগত সহায়তা, আধুনিক অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা গেলে চামড়া শিল্প দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাতে পরিণত হতে পারে।