বাজারে সোনার দাম কমল: ২২ ক্যারেট সোনা ভরিতে ২,১৫৮ টাকা সস্তা
সোনার দাম কমল: ২২ ক্যারেটে ভরিতে ২,১৫৮ টাকা সস্তা

বাজারে সোনার দাম কমল: টানা বৃদ্ধির পর আজ ধারায় ছেদ

দেশের বাজারে সোনার দাম আজ কমেছে, যা গত কয়েক দিনের টানা বৃদ্ধির ধারায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এর ঘোষণা অনুযায়ী, ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিপ্রতি ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে আনা হয়েছে। এই নতুন মূল্য আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে, এবং এর সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হবে।

সোনার নতুন মূল্য তালিকা

বাজুসের নতুন মূল্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার দাম নিম্নরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে:

  • ২২ ক্যারেট সোনা: প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকা
  • ২১ ক্যারেট সোনা: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২২ টাকা
  • ১৮ ক্যারেট সোনা: প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ১৪৬ টাকা
  • সনাতন পদ্ধতির সোনা: প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা

এছাড়াও, আজ রুপার দামও কমানো হয়েছে, যা বাজারে তেজাবি সোনা ও রুপার মূল্য হ্রাসের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্ববাজারের প্রভাব ও পূর্ববর্তী প্রবণতা

বাজুসের মতে, মূলত বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমে যাওয়ার কারণে দেশের বাজারে এই দাম কমানো হয়েছে। গত সপ্তাহের মঙ্গল ও বুধবার টানা দুদিন সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল, যার ফলে মোট ৬ হাজার ৫৩২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে আজ সেই ধারায় ছেদ পড়েছে।

বিশ্ববাজারে, সোনার দাম এখন প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা পূর্ববর্তী সর্বশেষ দাম বৃদ্ধির সময় ৪ হাজার ৬৭৬ ডলার ছিল। ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমছে, এবং গত ৩০ দিনে আউন্সপ্রতি ৪১৯ ডলার হ্রাস পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, ১২ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত দেশে সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ৫৭৫ টাকা কমানো হয়েছিল, কিন্তু পরে বিশ্ববাজারে দাম আবার বাড়ার কারণে ২৮ মার্চ থেকে কয়েক দফা দাম বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান অবস্থা

সোনার দাম এখন ঐতিহাসিকভাবে অনেকটাই বেশি পর্যায়ে রয়েছে। গত জানুয়ারিতে, স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ৬০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল, যা দেশের বাজারে ২৯ জানুয়ারি সর্বোচ্চ দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় নিয়ে গিয়েছিল। বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা ক্রয় বৃদ্ধি, এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের অনুসন্ধান—এই সব মিলিয়ে সোনার দামে দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, এবং গত বছর বিশ্ববাজারে সোনার দাম ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বর্তমানে, ডলারের শক্তিবৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের মার্কিন বন্ডের দিকে ঝুঁকতে দেখা যাচ্ছে, যা সোনা ও ডলারের বিপরীতমুখী সম্পর্কের স্বাভাবিক প্রবণতাকে প্রতিফলিত করছে। সাধারণত, সোনা ও ডলারের দাম একসঙ্গে বৃদ্ধি পায় না, এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধারা বজায় রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, আজকের দাম কমানো বিশ্ববাজারের পরিবর্তনশীলতা এবং দেশীয় বাজারের প্রতিক্রিয়ার একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সোনার মূল্য প্রবণতা নিয়ে আরও সতর্ক পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।