ভারতের শেয়ারবাজারে ধস, ট্রাম্পের ভাষণে বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা
আজ বৃহস্পতিবার ভারতের শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পরপরই বড় ধরনের পতন হয়েছে। প্রথম ঘণ্টার লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের সম্মিলিত ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ কোটি রুপি। মূলত গতকাল জাতির উদ্দেশে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণের পর বিশ্ববাজারে যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে, তার জেরে এই পতন ঘটেছে। ট্রাম্পের ভাষণে যুদ্ধ বন্ধের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি, যা বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও ভারতের বাজারে প্রভাব
এই পরিস্থিতিতে আজ বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়েছে, এবং তার ধাক্কা সরাসরি ভারতের শেয়ারবাজারেও লেগেছে। লেনদেনের শুরুতেই সেনসেক্স ১ হাজার ৪০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে যায়, এবং নিফটি কমে প্রায় ৪০০ পয়েন্ট। অথচ গতকাল বুধবার সেনসেক্স ও নিফটি ৫০—উভয় সূচকই ঊর্ধ্বমুখী ধারায় দিন শেষ করেছিল, যা বাজারের ইতিবাচক মনোভাব নির্দেশ করছিল। কিন্তু আজ সকালে সেই আশায় গুঁড়ে বালি পড়েছে, এবং চলতি সপ্তাহে প্রথম অধিবেশনে বড় ধাক্কা খেয়েছে সেনসেক্স ও নিফটি ৫০।
এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পতনের ঢেউ
ভারতের পাশাপাশি এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বাজারেও শেয়ার সূচকের পতন হয়েছে। জাপানের শেয়ার সূচক নিক্কেই ২২৫ ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি শেয়ার সূচক ২ দশমিক ৮২ শতাংশ কমেছে, এবং স্মল ক্যাপ কোসড্যাক ৩ শতাংশের বেশি নেমেছে। হংকংয়ের বাজারেও সূচক নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে, যদিও চীনের বাজারে পতনের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও ধস নেমেছে, ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ৩৫২ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ কমেছে, এবং একই পরিমাণ পতন এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্সে সূচকের হয়েছে।
ভারতের শেয়ার সূচক পতনের অন্যান্য কারণ
ভারতের শেয়ার সূচক পতনের আরও কারণ হিসেবে গতকাল ট্রাম্পের ভাষণের পর বন্ডের সুদহার দ্রুত বেড়ে যাওয়া উল্লেখযোগ্য। বন্ডের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদ বেড়ে হয়েছে ৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ, এবং দুই বছরমেয়াদি বন্ডের সুদ ৪ ভিত্তি পয়েন্টের বেশি বেড়ে ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া, ভারতের শেয়ারবাজারে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি অব্যাহত আছে, যা রুপির ওপর চাপ তৈরি করছে এবং বাজারের মনোভাব দুর্বল করছে। এনএসইর তথ্য অনুযায়ী, গতকাল টানা ২২ দিন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতের বাজারে নিট বিক্রেতা ছিলেন, এবং তাঁরা প্রায় ৮ হাজার ৩৩১ কোটি রুপির শেয়ার বিক্রি করেছেন।
সামনের দিনগুলোর সম্ভাবনা
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরানের শাসন পরিবর্তন বা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া—যুক্তরাষ্ট্রের নজর এখন এই দুটি বিষয় সরে এসেছে। তাঁদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমে এলে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের বিমা খরচও কমবে, এবং জ্বালানি পরিবহন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে। তবে স্বল্প মেয়াদে বাজারে অনিশ্চয়তা থাকবে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তি থাকবে। যুদ্ধ কবে শেষ হবে, তা পরিষ্কার নয়, এবং এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে ইরান নতি স্বীকার করেছে—এমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। জিওজিত ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ ভি কে বিজয়কুমারের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্যে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হবে বলে উল্লেখ করার পর বাজারের মনোভাব আবারও নেতিবাচক হয়ে উঠেছে।



