ডিএসইতে লেনদেন বাড়লেও সূচক নিম্নমুখী, ২৫০ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে
ডিএসইতে লেনদেন বাড়লেও সূচক নিম্নমুখী

ডিএসইতে লেনদেন বাড়লেও সূচক নিম্নমুখী, বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা লক্ষণীয়

রোববার (২৯ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেও বাজার সূচক পতনের মধ্য দিয়ে বন্ধ হয়েছে। দিনের শেষে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমে যাওয়ায় তিনটি প্রধান সূচকই নিম্নমুখী হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কিছু শেয়ারে স্বল্পমেয়াদি মুনাফা নেওয়ার প্রবণতা এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

লেনদেন বৃদ্ধি ও সূচক পতনের পরিসংখ্যান

ডিএসই সূত্র অনুযায়ী, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ৬৪৬.৪২ কোটি টাকা। পূর্ববর্তী কার্যদিবস বৃহস্পতিবার এই লেনদেন ছিল ৬০৩.৮১ কোটি টাকা। এর ফলে এক দিনে লেনদেন প্রায় ৪৩ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, লেনদেন বৃদ্ধি সত্ত্বেও সূচকের পতন বাজারে আস্থার অভাব নির্দেশ করছে।

দিনের শেষে ডিএসই-এর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স নেমে দাঁড়িয়েছে ৫,২৭২.০৭ পয়েন্টে। পূর্ববর্তী কার্যদিবসের তুলনায় সূচকটি ৪৪.১৭ পয়েন্ট বা ০.৮৩% কমেছে। শরিয়া-সম্মত কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসইএস সূচক নেমেছে ১,০৬৬.১১ পয়েন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ৭.৫৪ পয়েন্ট বা ০.৭০% কম। অন্যদিকে, শীর্ষ ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচক নেমে দাঁড়িয়েছে ১,৯৯৮.৩৯ পয়েন্টে। পূর্ববর্তী দিনের তুলনায় এই সূচক ২১.৩২ পয়েন্ট বা ১.০৫% কমেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাজারের সামগ্রিক চিত্র ও শেয়ার দরের পরিবর্তন

ট্রেডিং সেশন শেষে বাজারের সামগ্রিক চিত্রে দেখা গেছে, অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে। এই দিনে ১১৪টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে, অন্যদিকে ২৫০টি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। ৩০টি কোম্পানির শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কিছু শেয়ারে স্বল্পমেয়াদি মুনাফা নেওয়ার প্রবণতার কারণে বাজারে বিক্রয় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, সূচক নিম্নমুখী হওয়া সত্ত্বেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির শেয়ার দর পতন

রোববারের ট্রেডিং সেশন শেষে দর পতনের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে প্রাইম টেক্স। পূর্ববর্তী কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ২০.৪০ টাকা, যা রোববার কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকায়। অর্থাৎ, এক দিনে শেয়ার দর ৬.৮৬% কমেছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সি পার্ল। কোম্পানিটির শেয়ার দর আগের দিনের ৪০.৮০ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮.৭০ টাকায়। এতে শেয়ার দর ৫.১৪% কমেছে।

তৃতীয় স্থানে আছে ওরিয়ন ইনফিউশন। পূর্ববর্তী কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৩৫৯.৬০ টাকা, যা রোববার কমে হয়েছে ৩৪৩ টাকা। এতে দর ৪.৬১% কমেছে।

চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে আইসিবি এএমসিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। এই ফান্ডের ইউনিট দর আগের দিনের ৬.৯০ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৬.৬০ টাকায়। অর্থাৎ, দর ৪.৩৪% কমেছে।

পঞ্চম স্থানে আছে ফিনিক্স ফাইন্যান্স। কোম্পানিটির শেয়ার পূর্ববর্তী কার্যদিবসে ৪.৭০ টাকায় লেনদেন হচ্ছিল, যা রোববার কমে হয়েছে ৪.৫০ টাকা। এতে দর ৪.২৫% কমেছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতামত ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছু সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর ফলে অনেকেই স্বল্পমেয়াদি মুনাফা নিতে শেয়ার বিক্রি করছেন। এটি বাজারে বিক্রয় চাপ সৃষ্টি করছে এবং সূচক নিচের দিকে যাচ্ছে।

তাদের মতে, বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং শক্ত ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ানো গেলে শেয়ার বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং বাজার বিশ্লেষণের উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে তারা মত দিয়েছেন।