বিএসইসির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য: পুঁজিবাজার জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারের আকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারের আকার জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশের সমান, যা নির্দেশ করে যে নির্ধারিত সময়ে বাজারের পরিধি প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যমাত্রা স্থাপন করা হয়েছে।
এডিবির সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা
রবিবার (১৫ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির কার্যালয়ে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই লক্ষ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। এডিবির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞ ও মিশন প্রধান মনোহরি গুনাওয়ারধেনা। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ প্রকল্প কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদ আল হাসান এবং বেসরকারি খাত উন্নয়ন কর্মকর্তা আজিজুল কাদির।
পুঁজিবাজার সম্প্রসারণের কৌশল
বিএসইসি জানিয়েছে, পুঁজিবাজারের আকার বৃদ্ধি করতে বড় কোম্পানি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো, নীতিগত সংস্কার এবং বাজার অবকাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কমিশনের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘমেয়াদে পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত পুঁজিবাজার নিরীক্ষা ও বিশ্লেষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন
একই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থাপনাকে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনসের (আইওএসসিও) সুশাসন নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্বল্পমেয়াদে কমিশনের কার্যক্রমে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয়তা বাড়িয়ে বাজার পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে একটি বন্ড নিশ্চয়তা তহবিল গঠনের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
যৌথ উদ্যোগ ও প্রণোদনা
বিএসইসি আরও জানায়, পুঁজিবাজারে বড় ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতে একটি যৌথ কাঠামো তৈরির বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক সমন্বিতভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে বড় বাজার অংশীদারত্বসম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে নীতিগত সহায়তা ও প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এডিবির সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বৈঠকে দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নে বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এডিবি। বিশেষ করে কার্যকর বন্ড নিশ্চয়তা তহবিল গঠনের সম্ভাব্য মডেল নির্ধারণে সমীক্ষা পরিচালনা এবং বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে সহযোগিতার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। সভায় উভয় পক্ষ দেশের পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও যৌথভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
