২৫ ক্লিনটেক উদ্ভাবক পেলেন জাতীয় পুরস্কার
বাংলাদেশে সার্কুলার (বৃত্তাকার) অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা ও টেকসই সবুজ শিল্পে রূপান্তরের লক্ষ্যে ২৫ জন সম্ভাবনাময় ক্লিনটেক (পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি) উদ্ভাবককে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টে (বিআইএম) আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ক্লিনটেক অ্যাওয়ার্ড সিরিমনি অ্যান্ড ইনোভেশন শোকেস’ অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনআইডিও), এসএমই ফাউন্ডেশন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অংশীদারত্বে আয়োজিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলা এবং দেশীয় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো।
কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত ২৫ উদ্ভাবক
দেশব্যাপী প্রাপ্ত ৬৪৩টি আবেদন থেকে কঠোর বহুস্তরীয় বাছাই প্রক্রিয়া এবং নিবিড় আবাসিক বুটক্যাম্প শেষে চূড়ান্তভাবে ২৫ উদ্ভাবককে নির্বাচিত করা হয়। তিনটি বিভাগে বিভক্ত এই পুরস্কারের আওতায় শীর্ষ তিন উদ্ভাবকের প্রত্যেকে ৫ লাখ টাকা, পরবর্তী সাতজন ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অবশিষ্ট ১৫ জন ১ লাখ টাকা করে ‘অ্যাকসেলারেটর সাপোর্ট ফান্ড’ লাভ করেন।
আর্থিক সহায়তার বাইরেও এই শীর্ষ উদ্ভাবকেরা ব্যবসা উন্নয়ন, কারিগরি দিকনির্দেশনা এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা পাবেন।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের বক্তব্য
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “একটি সবুজ ও সম্পদ-দক্ষ অর্থনীতির দিকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা নির্ভর করবে উদ্ভাবনী ধারণাকে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নযোগ্য সমাধানে রূপান্তর করা যায় তার ওপর। আজ স্বীকৃত উদ্যোক্তারা দেখিয়েছেন যে পরিবেশগত দায়বদ্ধতা ও অর্থনৈতিক সুযোগ একই সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে। দেশীয় পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তিকে সহায়তা করার মাধ্যমে আমরা দূষণ কমিয়ে আরও সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি।”
ইউএনআইডিও প্রতিনিধির মতামত
ইউএনআইডিও-র সার্কুলার ইকোনমি অ্যান্ড রিসোর্স এফিশিয়েন্সি ইউনিটের প্রধান জেরোম স্টুকি বলেন, “সম্পদের দক্ষ ব্যবহার ও বর্জ্য হ্রাসের মাধ্যমে সবুজ ব্যবসা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টি করে। এই উদ্ভাবকেরা প্রমাণ করেছেন যে টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জগুলোকে কার্যকর ব্যবসায়িক সুযোগে রূপান্তর করা সম্ভব।”
সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর জোর
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। বক্তারা প্লাস্টিক দূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্প খাত ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
নরওয়ে সরকারের অর্থায়নে আয়োজন
নরওয়ে সরকারের অর্থায়নে এবং ‘ইন্টিগ্রেটেড অ্যাপ্রোচ টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবল প্লাস্টিকস ইউজ অ্যান্ড মেরিন লিটার প্রিভেনশন ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অধীনে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘ইনোভেশন শোকেস’-এ উদ্যোক্তারা নীতিনির্ধারক ও বিনিয়োগকারীদের সামনে তাদের উদ্ভাবিত পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও প্রোটোটাইপ প্রদর্শন করেন।
বর্জ্যমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব সার্কুলার বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে এই উদ্যোগ দূরগামী ও টেকসই প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।



