যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্জন
তৈরি পোশাক রপ্তানিতে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এই সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। পাল্টা শুল্কের কারণে চীনের রপ্তানি ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ায় বাংলাদেশের এই উত্থান ঘটেছে। যদিও সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কিছুটা কমেছে, তবুও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চলতি বছরের প্রথম দুই মাসের পরিসংখ্যান
চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ চীনকে টপকে দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানিকারকে পরিণত হয়েছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দেশ থেকে ১ হাজার ১৭৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ কমেছে।
অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ভিয়েতনাম ২৭০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে শীর্ষ স্থানে রয়েছে, যার রপ্তানি ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ১৩৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক, যদিও গত বছরের একই সময়ে এটি ছিল ১৫০ কোটি ডলার, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ কম।
অন্যান্য দেশের রপ্তানি প্রবণতা
এদিকে, চীন চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ১১৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের ২৭৭ কোটি ডলারের তুলনায় ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ কম। ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি বেড়ে ৮১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি। তবে ভারতের রপ্তানি কমে গেছে পৌনে ২৪ শতাংশ, বর্তমানে ৭২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
পাল্টা শুল্কের প্রভাব ও বাংলাদেশের অবস্থান
গত বছরের এপ্রিলে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন, যা পরে বাংলাদেশের জন্য ২০ শতাংশে কমে আসে। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি করে ফেব্রুয়ারিতে, যার ফলে শুল্কের হার আরও কমে ১৯ শতাংশ হয়। যদিও মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এই শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছে, তবুও ট্রাম্প নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে পাল্টা শুল্কের প্রস্তাবে বাংলাদেশ কিছুটা বেকায়দায় থাকলেও পরে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছায়। উদাহরণস্বরূপ, ভিয়েতনামের শুল্ক ২০ শতাংশ থাকলেও ভারতের পণ্যে মোট শুল্কহার ৫০ শতাংশ এবং চীনের শুল্ক আরও বেশি। ফলে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক ও অন্যান্য পণ্যের ক্রয়াদেশ বাড়তে শুরু করে, যদিও পরে এই ধারাবাহিকতা পুরোপুরি বজায় থাকেনি।
সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যতে শুল্ক নীতির পরিবর্তন ও বাজার চাহিদার উপর নির্ভর করে বাংলাদেশের এই অবস্থান আরও সুদৃঢ় হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



