পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবণতা: প্রথম আট মাসে আয় কমেছে ৩.৭৩ শতাংশ
দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানিতে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে পোশাক রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ২৫.৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৭৩ শতাংশ কম।
সেক্টরভিত্তিক বিশ্লেষণে নেতিবাচক প্রবণতা
সেক্টরভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিটওয়্যার রপ্তানি আয় হয়েছে ১৩.৬৯ বিলিয়ন ডলার—যা ৪.৫৬ শতাংশ কম। অন্যদিকে, ওভেন পোশাক রপ্তানি আয় হয়েছে ১২.১১ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ২.৭৯ শতাংশ কম। অর্থাৎ, উভয় প্রধান উপ-সেক্টরেই নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
ফেব্রুয়ারি মাসের চিত্র আরও উদ্বেগজনক
ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসের চিত্রটি আরও উদ্বেগজনক। এই মাসে পোশাক রপ্তানি আয় হয়েছে ২.৮২ বিলিয়ন ডলার, যা ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর তুলনায় ১৩.২১ শতাংশ কম। সেক্টরভিত্তিকভাবে, নিটওয়্যার রপ্তানি আয় হয়েছে ১.৪০ বিলিয়ন ডলার, যা ১৫.৪৬ শতাংশ কম। অন্যদিকে, ওভেন পোশাক রপ্তানি আয় হয়েছে ১.৪২ বিলিয়ন ডলার, যা ১০.৮৬ শতাংশ কম। অর্থাৎ, ফেব্রুয়ারি মাসে নিট সেক্টরে পতন তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল, যদিও ওভেন সেক্টরেও দুই অঙ্কের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
গত বছরের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় নেই
উল্লেখযোগ্য যে, গত অর্থবছর (এফওয়াই২৫) এর একই সময়ে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) পোশাক খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল। পুরো এফওয়াই২৫-এ রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছিল ৩৯.৩৫ বিলিয়ন ডলার, যা এফওয়াই২৪-এর তুলনায় ৮.৮৪ শতাংশ বেশি। এফওয়াই২৪ থেকে এফওয়াই২৫-এ ওভেন সেক্টরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.৮২ শতাংশ, অন্যদিকে নিট সেক্টরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৯.৭৩ শতাংশ। কিন্তু চলতি অর্থবছরে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়নি। বিশেষ করে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বৈশ্বিক বাজারে অর্ডার কমে যাওয়া, মূল্যছাড়ের চাপ ও দুর্বল চাহিদার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতামত ও চ্যালেঞ্জ
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় বাজারে ভোক্তা চাহিদা মন্থর হওয়া, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও ধীর খুচরা বিক্রয় নতুন অর্ডারকে প্রভাবিত করেছে। এছাড়া, প্রতিযোগী দেশগুলোর সাথে মূল্যপ্রতিযোগিতা, কাঁচামালের দামের চাপ ও জ্বালানি ব্যয় রপ্তানিকারকদের মুনাফার মার্জিনও কমিয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেব্রুয়ারির মতো দুই অঙ্কের পতন যদি অব্যাহত থাকে, তবে চলতি অর্থবছরের মোট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হতে পারে।
অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
পোশাক খাত দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ করে। ফলে, এই খাতে মন্থরতা সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশে—বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিনিময় হার ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে—চাপ সৃষ্টি করতে পারে। শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে এখন বাজার বৈচিত্র্যকরণ, উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন, দ্রুত লিড টাইম নিশ্চিতকরণ এবং মান ও সম্মতিশীলতা শক্তিশালীকরণ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
সামগ্রিক চিত্র ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
সামগ্রিকভাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসের তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে, গত বছরের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পর তৈরি পোশাক রপ্তানিতে স্পষ্ট চাপ তৈরি হয়েছে। মার্চ-জুন সময়ের কার্যকারিতা নির্ধারণ করবে যে এই ধাক্কা অস্থায়ী নাকি দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা।



