যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যচুক্তি ন্যায্যতা বুঝতে অন্যান্য দেশের চুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি উদাহরণ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার কথা উল্লেখ করেন। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় চীন সফর নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে সমালোচনার জবাব
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। চুক্তিটি অত্যন্ত অসম এবং এতে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে অনেকে মন্তব্য করছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন এটা নিয়ে আলোচনা হওয়া খুব ভালো এবং মুক্ত আলোচনা হওয়াই উচিত যে কোনো চুক্তি নিয়ে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যেটা বললেন বাংলাদেশ ১৩১টাতে শ্যাল (shall— বাধ্যতামূলক অর্থে) বলেছে...। আমরা তো একা এই চুক্তি করিনি। বিশ্বের অন্যান্য দেশও করেছে। ইন্দোনেশিয়া ২৩১টাতে এইরকম শ্যাল বলেছে।’
তুলনামূলক বিশ্লেষণের পরামর্শ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের চুক্তিটি যখন পাঠ করবেন তখন ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ অন্যান্য যারা চুক্তি করেছে তাদেরটা পাশে নিয়ে পাঠ করলে আপনি জিনিসটা ভালো করে বুঝবেন। আমি বলব যে আপনারা সবাই মিলে সেটা দেখেন, তুলনামূলক দেখেন, আমরা কী পেয়েছি কী পাইনি।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সব দেশকে বলেছে যে তোমাদেরকে রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ (পাল্টা শুল্ক)...যেমন আমাদের ৩৯ শতাংশ বা ৩৭ শতাংশ দিয়েছিল। তো অন্যান্য সব দেশকেও দিয়েছে, নেগোশিয়েট করেছে। কেউ ২০ পেয়েছে—ভিয়েতনাম। আমরা ১৯ পেয়েছি।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সবারই কিন্তু এই অ্যাগ্রিমেন্টগুলো পাবলিক স্পেসে এখন পাওয়া যাচ্ছে। আপনারা বাংলাদেশের অ্যাগ্রিমেন্টটা অন্যান্য দেশের অ্যাগ্রিমেন্টের সঙ্গে তুলনা করে পড়েন। তাহলে বুঝবেন যে আমরা কী কী রেট পেয়েছি। পলিসিতে আমরা কী কী বিষয়ে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছি। অন্যরাও কী চুক্তি করেছে। অন্যদের পারচেস কমিটমেন্ট (আমদানি প্রতিশ্রুতি) কত? আমাদের পারচেস কমিটমেন্ট কত? সব মিলিয়ে দেখেন।’
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ও সীমান্ত পরিস্থিতি
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পতন ও বিজেপির ভূমিধস বিজয়ে বাংলাদেশে কী ধরনের প্রভাব পড়বে সে প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘দেখুন, পশ্চিমবঙ্গে এখনো সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং তারা কী ভাবছেন, কী করবেন, সেটা তারা যদি না জানান, তাদের মাইন্ড রিড করার কাজ আমার না। প্রত্যাশা থাকবে যাতে করে তাদের সঙ্গে যেটা (আলোচনা ও চুক্তি) হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা আমরা কনসিডার করতে পারি কিনা। কিন্তু সে জন্য তো বসে থাকা চলবে না, আমাদের কাজ আমাদের করতে হবে।’
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে রাতের অন্ধকারে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষকে সীমান্ত পার করে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। সেখানে বাংলাভাষী মুসলিমদের অবৈধ নাগরিক বলে তারা দাবি করছেন। হিমন্ত এবার বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন। সীমান্তে আবার উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নিয়েছে বা নেবে সে প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন যখন আসামের মুখ্যমন্ত্রী কথাটি বলেছিলেন, স্বীকার করেছিলেন যে তিনি কিছু কাজ করেছেন। আপনারা দেখেছেন আমরা সেটার প্রতিবাদ দিয়েছি, সেই বিষয়ে আমাদের যা যা ব্যবস্থা আমরা নেব।’



