ঈদ সামনে রেখে রেমিট্যান্স প্রবাহে রেকর্ড বৃদ্ধি
আসন্ন ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে অভূতপূর্ব উল্লম্ফন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলতি বছরের মার্চ মাসের প্রথম ১৪ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রায় ২ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৫ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি। গত বছর এই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল মাত্র ১ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার।
ব্যাংকারদের বিশ্লেষণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান রবিবার বিকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ব্যাংকাররা ব্যাখ্যা দিচ্ছেন যে, ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর প্রবণতা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাওয়াই এই সময় রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য স্ফীতি ঘটিয়েছে।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, "ঈদের আগে পরিবারের বাড়তি খরচ, নতুন পোশাক ও উৎসবের প্রস্তুতির জন্য প্রবাসীরা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অর্থ পাঠান। তবে ঈদের পরপরই এই প্রবাহ কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসার প্রবণতা আমরা দেখতে পাই।"
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব
তিনি আরও সতর্ক করে দিয়ে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের মতো পরিস্থিতি যদি ওই অঞ্চলে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে, তাহলে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
ডলার বাজারের অবস্থা
ব্যাংক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রবিবার প্রবাসী আয়ের ডলার ক্রয় করতে ব্যাংকগুলো প্রতি ডলারের বিপরীতে ১২১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা পর্যন্ত দাম দিচ্ছে। অন্যদিকে, আমদানি বিল বা এলসি নিষ্পত্তির জন্য ডলারের দাম ধরা হয়েছে প্রায় ১২১ টাকা ২০ পয়সা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত অবস্থান
ব্যাংকাররা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত অবস্থানও ডলার বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে অর্থনীতিবিদদের বৈঠকে রিজার্ভ সংরক্ষণে সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এতে বাজারে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহজে ডলার বিক্রি করবে না। ফলে ব্যাংকগুলো প্রবাসী আয়ের ডলার তুলনামূলক বেশি দামে কিনতে শুরু করেছে, যা রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও উৎসাহিত করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
ব্যাংকারদের মতে, সামনে দেশে বিনিয়োগ কার্যক্রম বৃদ্ধি পেলে আমদানি খোলার চাহিদা বাড়বে এবং তাতে ডলারের চাহিদাও বৃদ্ধি পেতে পারে। সেই সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখেই ব্যাংকগুলো এখন থেকেই ডলার সংগ্রহে আগ্রহী হয়ে উঠেছে, যা বর্তমান রেমিট্যান্স প্রবাহের উচ্চ হারকে সমর্থন করছে।
এই পরিস্থিতিতে, ঈদুল ফিতরের আগে রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ভবিষ্যতের জন্য কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
