মার্চে রেমিট্যান্স প্রবাহে ব্যাপক চাঙাভাব: প্রথম দুই দিনেই ৪,৫৯৯ কোটি টাকা
পবিত্র রমজান মাস ও আসন্ন ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি মার্চ মাসের প্রথম দুই দিনেই দেশে ব্যাপক পরিমাণে রেমিট্যান্স এসেছে, যা অর্থনীতির জন্য একটি শুভ সংবাদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রথম দুই দিনের রেমিট্যান্স পরিসংখ্যান
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকালে প্রদত্ত তথ্যে জানিয়েছেন, মার্চ মাসের ১ ও ২ তারিখে মোট ৩৭ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে প্রবেশ করেছে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫৯৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত ২০২৫ সালের মার্চ মাসের প্রথম দুই দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল মাত্র ১৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সে হিসাবে চলতি বছরে প্রবাসী আয় ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা একটি অভূতপূর্ব অর্জন।
চলতি অর্থবছরের সামগ্রিক চিত্র
রেমিট্যান্স প্রবাহের সামগ্রিক চিত্রও বেশ ইতিবাচক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত সময়ে মোট ২ হাজার ২৮৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮৬৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
ফেব্রুয়ারি মাসের রেমিট্যান্স পরিসংখ্যান
এদিকে, সদ্যসমাপ্ত ফেব্রুয়ারি মাসেও প্রবাসীরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ৩.২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে প্রবেশ করেছে, যা অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক প্রভাব
ব্যাংক ও অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, রেমিট্যান্স প্রবাহে এই চাঙাভাব বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রেমিট্যান্স বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং আমদানি ব্যয় মেটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
রমজান ও ঈদের সময় প্রবাসী বাংলাদেশীদের বাড়তি সঞ্চয় ও পাঠানো অর্থের প্রবাহ সাধারণত বৃদ্ধি পায়, যা এবারও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এই প্রবাহ ধরে রাখতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন প্রণোদনা ও সুবিধা প্রদান করে যাচ্ছে।
