ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙাভাব, ৩ বিলিয়ন ডলার এসেছে দেশে
দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতর ঘিরে সদ্যসমাপ্ত ফেব্রুয়ারি মাসে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে ৩০২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার সমতুল্য। এই পরিমাণ গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ২৫২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল বলে জানা গেছে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব
রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙাভাব থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে উল্লেখ করেছেন ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ৩০ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি বা ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। একক মাস হিসাবে এই রেমিট্যান্স দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে একক মাস হিসাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছিল, সে মাসে ৩২২ কোটি ডলার আসে।
২০২৫ সালে মোট প্রবাসী আয়ের পরিসংখ্যান
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫ সালে দেশের মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। দেশের ইতিহাসে গত বছরের মার্চে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২৯ কোটি ডলার, যা ঈদুল ফিতর সামনে রেখে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠানোর ফলশ্রুতি বলে বিবেচিত হয়।
এই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমাতে এবং আমদানি ব্যয় মেটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
