রোজা ও ঈদ সামনে রেখে ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্সে উল্লম্ফন, প্রবৃদ্ধি ১৯.১৫%
ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্সে উল্লম্ফন, প্রবৃদ্ধি ১৯.১৫%

রোজা ও ঈদ সামনে রেখে ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্সে উল্লম্ফন

রোজা ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩ দশমিক ০২ বিলিয়ন (৩০২ কোটি) মার্কিন ডলার, যা আগের মাসের তুলনায় ১৯ দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি।

ব্যাংকারদের বিশ্লেষণ

ব্যাংকাররা বলছেন, পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে প্রবাসীরা গত মাসে তুলনামূলক বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। ফলে মাসভিত্তিক হিসাবে রেমিট্যান্স প্রবাহে দৃশ্যমান প্রবৃদ্ধি এসেছে।

বছরওয়ারি তুলনা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে এসেছিল ২ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে চলতি ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৪৯৩ মিলিয়ন ডলার।

অর্থবছরের চিত্র

অপরদিকে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই ২০২৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত) দেশে মোট ২২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ১৮ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, অর্থবছর বিবেচনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতামত

বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী আয়ের এ ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে রেমিট্যান্স প্রবাহের এই গতি ধরে রাখা নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলেও তা অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এছাড়াও, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন। তারা মনে করেন, প্রবাসীদের এই অবদান ভবিষ্যতেও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।