ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা, ২৫ দিনে ২৭৯ কোটি ডলার
চলতি মাসের প্রথম ২৫ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৭৯ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার, যা প্রায় ২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারের সমতুল্য। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১১ কোটি ১৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি
আরিফ হোসেন খান বলেন, চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ২৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৭৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। অন্যদিকে, গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২২৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা প্রবাসী শ্রমিকদের অবদানের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের সামগ্রিক চিত্র
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ২২২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এই পরিমাণ বছরপ্রতি ২১ দশমিক ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি প্রদর্শন করেছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
সর্বোচ্চ রেকর্ডের দিকে ধাবমান প্রবাহ
এর আগে জানুয়ারি মাসে দেশে এসেছে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা ইতিহাসে কোনো এক মাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও চলতি অর্থবছরের কোনো এক মাসে আসা সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের মাইলফলক স্থাপন করেছে।
গত কয়েক মাসের রেমিট্যান্স প্রবাহ
গত নভেম্বরে দেশে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। এছাড়া, গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড
এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এই পরিমাণ দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃত, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
